সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় চালকলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় উদ্বেগ বাড়ছে। এতে সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহ কার্যক্রমে যেমন প্রভাব পড়তে পারে, তেমনি চালকলকেন্দ্রিক শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও পরিবহন খাতেও কর্মসংস্থান সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি চালকল ধান সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও চাল বাজারজাত করে আসছে। লুৎফা, ওমর, আনোয়ারা, মামাভাগ্নে সামি ও সৌরভ সেমিঅটো চালকলের কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে অনেক মানুষ যুক্ত। এসব মিলকে কেন্দ্র করে শ্রমিকের পাশাপাশি ধান-চাল ব্যবসা ও পরিবহন খাতেও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
মিল মালিক ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ধান ও চালের বাজারে নানা ধরনের পরিবর্তন, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং অন্যান্য সমস্যার কারণে বর্তমানে চালকল পরিচালনা আগের তুলনায় কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে একাধিক মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
চালকলগুলো সচল রাখতে দ্রুত সরকারি উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন মিল মালিক ও শ্রমিকরা। একই সঙ্গে সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহ কর্মসূচিতে স্থানীয়ভাবে সক্ষম চালকলগুলোকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, স্থানীয় চালকলগুলো চালু থাকলে সরকারি খাদ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে চাল সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। পাশাপাশি মিলের শ্রমিক, পরিবহনকর্মী, ধান ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের কর্মসংস্থানও টিকে থাকবে।
চান্দাইকোনা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তন্ময় বিশ্বাস বলেন, সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহ কার্যক্রমে স্থানীয় চালকলগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত মান বজায় রেখে নির্দিষ্ট সময়ে চাল সরবরাহ করা হলে সংগ্রহ কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব।
তিনি বলেন, চালকল মালিক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমেই খাদ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। কোনো মিলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সেটি যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সচল ও সক্ষম মিলগুলোকে কাজে লাগিয়ে সরকারি খাদ্য সংগ্রহ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. হারুন অর রশিদ বলেন, সরকারি বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। লাইসেন্স, মিল সার্ভে, বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্যতা এবং সরবরাহ করা চালের মান যাচাই করেই বরাদ্দ দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে চালকল খাতের সমস্যা চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে একদিকে সরকারি খাদ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সচল রাখা সম্ভব হবে, অন্যদিকে এ খাতের ওপর নির্ভরশীল মানুষের কর্মসংস্থানও ধরে রাখা যাবে।