গাজীপুরে বেতন-বোনাসে ‘সন্তুষ্ট’ শ্রমিক, ঈদের ছুটিতেও খোলা ৮১ কারখানা

গাজীপুর প্রতিনিধি
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

দীর্ঘ দেড় যুগের অস্থিরতা কাটিয়ে এবার ভিন্ন আমেজে ঈদ উদযাপন করছেন গাজীপুরের পোশাক শ্রমিকরা। শিল্প পুলিশের দাবি অনুযায়ী, এবারই প্রথম শিল্পাঞ্চলে কোনো ধরনের বিক্ষোভ বা সড়ক অবরোধ ছাড়াই ‘শতভাগ’ কারখানায় বেতন ও বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে। স্বস্তির এ পরিস্থিতির মধ্যেও উৎপাদন প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ঈদের ছুটিতে জেলার ৮১টি বিশেষায়িত কারখানা আংশিক চালু থাকবে বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসেন বলেন, “বিগত দেড় যুগে ঈদের আগে আন্দোলন-বিক্ষোভ, অবরোধ ছাড়া শ্রমিকরা বকেয়া ও বোনাস পাননি, ‘দীর্ঘদিন পরে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএভুক্ত কারখানাসহ প্রায় ২ হাজার ৮৩৪টি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা বেতন ও ঈদ বোনাস নিয়ে আনন্দচিত্তে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।’

গাজীপুর মহানগরের ভোগড়া এলাকার ‘স্টার লাইট’ পোশাক কারখানার শ্রমিক হাবিবুর রহমান বলছেন, “এবার আমাদের কারখানা ছাড়াও আশেপাশের কারখানায় ঈদের আগেই বেতন ও বোনাস পরিশোধ করেছে কর্তৃপক্ষ, ‘আমরা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আনন্দে ঈদ উদযাপন করতে পারবো।’

শিল্প পুলিশের কর্মকর্তা আমজাদ হোসেনের ভাষ্য, ‘সরকারের প্রণোদনা, জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও কারখানা মালিকদের সমন্বিত উদ্যোগের ফলে এ সাফল্য এসেছে।’

ঈদের ছুটিতে খোলা যেসব কারখানা
ঈদের ছুটির মধ্যেও গাজীপুরে ৮১টি কারখানা আংশিক খোলা থাকবে। বিশেষ করে স্পিনিং মিলসহ কিছু কারখানায় কাঁচামাল লোড করার পর মেশিন বন্ধ রাখা সম্ভব না হওয়ায় উৎপাদন আংশিক চালু রাখা হবে। ঈদের দিন জেলার সব সিরামিকস কারখানা-প্যারাগন, আরএকে, ডিবিএল, সানপাওয়ার, সোলার সিরামিক্স ও নাসির গ্লাস আংশিক খোলা থাকবে। এছাড়াও নোমান গ্রুপের সাদ সান টেক্সটাইল মিল চালু থাকবে।

সাব-কন্ট্রাক্ট কারখানার মধ্যে শেরপুর নীটিং, গাজীপুর মহানগরের হাতিমারা এলাকার মুন ব্রাইট নিট লিমিটেড, কাশিমপুরের এনায়েতপুরে লফ অ্যান্ড নিটিং ডিজাইন ফ্যাব্রিক্স লিমিটেড, বাগবাড়ি এলাকার আর এ নিট ফ্যাব্রিক, সুরাবাড়ির মন্ডল নিটওয়্যার, সারদাগঞ্জের সরকার নিট, কাশিমপুর সুরাবাড়ির জাপান নিটওয়্যার, শৈলডুবি এলাকার সিরাজগঞ্জ ফ্যাশন এবং বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের শাইনপুকুর কারখানা খোলা থাকবে।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, ‘এসব কারখানায় কাঁচামাল লোড করার পর মেশিন বন্ধ রাখা যায় না। তাই উৎপাদন প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে কারখানা খোলা রাখার সিন্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।’

সুত্র : বিডিনিউজ  

এলাকার খবর

সম্পর্কিত