ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ইসলামী ব্যাংকের গত দেড় বছরের লেনদেন তদন্তের দাবি জানিয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, এই সময়ের আর্থিক লেনদেন পর্যালোচনা করলে নির্বাচনী ব্যয়ের উৎস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধিতে ব্যয়ের সীমা থাকলেও বাস্তবে মাঠে গিয়ে দেখা গেছে ব্যয়ের মাত্রা অনেক বেশি ছিল, যা ব্যাখ্যার দাবি রাখে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে তিনি সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের ব্যয় ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নানা ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দেন।
তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী আচরণবিধিতে ব্যয়ের সীমা নির্ধারিত থাকলেও বাস্তবে নির্বাচনের সময় বিপুল পরিমাণ অর্থের ব্যবহার হয়েছে। মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাচনে অস্বাভাবিক অর্থের ছড়াছড়ি লক্ষ্য করা গেছে, যার উৎস নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
তিনি ছাত্র রাজনীতি ও সাম্প্রতিক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। আন্দোলনকারীদের প্রতি ব্যক্তিগতভাবে সমর্থন ও সাহস দেয়ার কথা উল্লেখ করলেও তিনি মনে করেন, তাদের রাজনৈতিক দল গঠনের সিদ্ধান্তটি সঠিক হয়নি। তার মতে, তারা যদি দল গঠন না করে আগের অবস্থানেই থাকতেন, তবে তাদের গ্রহণযোগ্যতা ও শক্তি আরও বৃদ্ধি পেত।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়েও ছাত্র রাজনীতিতে সহিংসতা ও অস্ত্রের ব্যবহার দেখা গেছে, যা বর্তমান প্রজন্মের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে ছাত্র রাজনীতির সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি সংসদে তুলে ধরেন।
পানিসম্পদমন্ত্রী তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখায় তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি পাওয়া দেশের জন্য গর্বের বিষয়। একই সঙ্গে জিয়া পরিবারের তিন প্রজন্মের নেতৃত্বের ঐতিহাসিক ভূমিকা এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগের প্রশংসাও করেন তিনি।
তিনি ‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গেও কথা বলেন এবং বিরোধী পক্ষকে আশ্বস্ত করে জানান, সরকার এই সনদের প্রতিটি বিষয় বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।