ইরানে সরকারবিরোধী অভ্যুত্থানের আশায় ইসরায়েল

আজাদ ডেস্ক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
তেহরানে বিস্ফোরণ। ছবি: এপি ছবি:
তেহরানে বিস্ফোরণ। ছবি: এপি ছবি:

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চতুর্থ দিন পার করছে। এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের শঙ্কা কাজ করছে যে, বর্তমান শাসনব্যবস্থা উপড়ে ফেলা এবং দেশটির পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করার আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যৌথ অভিযান বন্ধ করে দিতে পারেন।

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম আল-মনিটরের সঙ্গে আলাপকালে ইসরায়েলি কূটনীতিক ও সামরিক কর্মকর্তারা কয়েকটি আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি। উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল স্থাপনাগুলোতে ইরানের হামলা এবং ইরানের তেল অবকাঠামোতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা আঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে।

একজন জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কূটনীতিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা এটিই সবচেয়ে বেশি ভয় পাচ্ছি। ট্রাম্প শেয়ারবাজার নিয়ে বেশি ভাবেন। তিনি ডলারের মান দুর্বল হওয়া বা পণ্যের দাম বাড়া পছন্দ করেন না। তাছাড়া ইরানে যুদ্ধের পক্ষে তার দেশে খুব একটা জনসমর্থনও নেই। এই বিষয়গুলো তাকে অভিযান চালিয়ে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে পারে।’

ইসরায়েল আশা করছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ সরকারের যেভাবে পতন হয়েছিল, ইরানেও তেমন কিছু ঘটবে। কয়েক দিনের মধ্যে ব্যাপক বিক্ষোভের মাধ্যমে ভেতর থেকেই ইরান সরকারের পতন হতে পারে বলে তাদের ধারণা।

ইসরায়েলি সূত্রগুলোর মতে, আপাতত পরিকল্পনা অনুযায়ী সব চলছে এবং ফলাফলও চমৎকার। তবে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার বিষয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তিনি যেকোনও মুহূর্তে যুদ্ধবিরতির নির্দেশ দিতে পারেন। রবিবার ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘তারা কথা বলতে চায় এবং আমি রাজি হয়েছি। তাই আমি তাদের সঙ্গে কথা বলব।’

ইসরায়েলের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ইয়াল হুলাতা সোমবার এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার সিদ্ধান্ত স্বয়ং ট্রাম্প নিয়েছিলেন, যেখানে ইসরায়েল কেবল ‘সাবকন্ট্রাক্টর’ হিসেবে কাজ করেছে। এখন ইসরায়েলের বড় প্রশ্ন হলো, ট্রাম্প কখন এই হামলা থামাবেন, তার কোনও প্রস্থান পরিকল্পনা আছে কি না এবং এ বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কতটা সমন্বয় করছেন।

ইসরায়েলি গোয়েন্দা সূত্র অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরুতে ইরানের কাছে ২ হাজার ৫০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল, যার মধ্যে এখন প্রায় ২ হাজার অবশিষ্ট আছে। যদিও ইরান কয়েকশ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে, তবে তাদের মজুত আরও অনেক দিন লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট। নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে স্পষ্ট করে বলেছেন যে, ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি এবং এটি নির্মূল করা আবশ্যক।

এদিকে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে রকেট ও ড্রোন হামলার ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ইসরায়েল। হিজবুল্লাহর ওপর ইরানের চাপ থাকলেও ইসরায়েল বর্তমানে লেবাননে বড় ধরনের কোনও স্থল অভিযানের কথা ভাবছে না। অন্তত ইরানের পরিস্থিতি স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননে প্রবেশের সম্ভাবনা নেই বলে মনে করা হচ্ছে।

মার্কিন চাপে উপসাগরীয় দেশগুলোকে এই অভিযানে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। কাতার ইতোমধ্যে জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ডে হামলার জন্য ইরানকে মূল্য দিতে হবে। তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলো আপাতত ‘ধীরে চলো’ নীতি গ্রহণ করেছে, যদিও তারা মনেপ্রাণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষেই আছে।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত