কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপে ফিসফিসানি শুনে শিশুসহ ২ জনকে উদ্ধার

আজাদ ডেস্ক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

কলম্বিয়ায় এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প

কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবন ধসে পড়ার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া এক শিশু ও এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ক্ষীণ একটি আওয়াজ (ফিসফিসানি) শুনে সবাই মিলে খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে তাদের বের করে আনেন।

সোমবার (১০ আগস্ট) ভূমিকম্পের সময় দেশটির কালি শহরে নিজের অফিস থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন ব্রায়ান ওসোরিও জুলুয়াগা। পথে ধসে পড়া 'লা তোরেস দেল লিমোনার' নামের পাঁচতলা ভবনটি দেখে তিনি থেমে যান।

সিএনএনকে ওসোরিও বলেন, 'এটি ছিল বিশাল একটি আবাসিক কমপ্লেক্স। পুরো একটি ব্লকজুড়ে এর অবস্থান ছিল।'

কলম্বিয়ায় এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। ভবন ধসে পড়ার পর বাসিন্দারা আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসেন। কেউ ছিলেন ঘুমের পোশাকে, কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন, আবার কেউ ছিলেন স্তব্ধ।

ওসোরিও ধ্বংসস্তূপের কাছে গিয়ে আটকে পড়াদের খুঁজতে চিৎকার শুরু করেন। গ্যাস লিকের আশঙ্কা থাকলেও তিনি থামেননি। হঠাৎ চারপাশের সবাইকে চুপ থাকতে বলেন। তখন ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে ভেসে আসে খুবই ক্ষীণ একটি কণ্ঠ।

'হ্যাঁ, আমি এখানে আছি। আমার সঙ্গে একটি শিশু আছে,' ভেতর থেকে উত্তর দেন এক ব্যক্তি।

ওসোরিও ও আশপাশের কয়েকজন খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরাতে শুরু করেন। কিন্তু তাদের পথ আটকে ছিল একটি বিশাল কংক্রিটের স্ল্যাব।

তিনি বলেন, 'প্রথমবার আমরা সেটি তুলতে পারিনি। তারপর সবাই একসঙ্গে বললাম—এক, দুই, তিন... এবং তুললাম।'

স্ল্যাবটি এত ভারী ছিল যে সেটি সরিয়ে ফেলা সম্ভব হয়নি। কয়েকজন সেটি ধরে রাখেন, আর অন্যরা ধীরে ধীরে শিশুটির কাছে পৌঁছানোর পথ তৈরি করেন।

ওসোরিও বলেন, 'শিশুটির ছোট্ট মাথাটা দেখা যাচ্ছিল। তখন তার মুখটা বেগুনি হয়ে গিয়েছিল, কারণ সে শ্বাস নিতে পারছিল না। ধ্বংসস্তূপ সরানোর পর ধীরে ধীরে সে আবার শ্বাস নিতে শুরু করে, আর তার স্বাভাবিক রং ফিরতে থাকে।'

ওসোরিওর ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, ধুলায় ঢাকা একটি শিশু সাবধানে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনা হচ্ছে। পাশে রক্তাক্ত হাতে আধা-আটকে পড়ে ছিলেন ওই ব্যক্তি।

উদ্ধারের পর শিশুটিকে এক পুলিশ কর্মকর্তার হাতে তুলে দেওয়া হয়। তিনি দ্রুত শিশুটিকে অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যান। এরপর সবাই মিলে আটকে থাকা ব্যক্তিকে বের করার কাজে মনোযোগ দেন।

ওসোরিও বলেন, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল কাপড়, জুতা আর ধুলায় ঢাকা একটি খেলনা। তখন তাঁর মনে হচ্ছিল, হয়তো আরও কেউ ভেতরে আটকে আছেন।

এই উদ্ধার অভিযানের সাফল্যের কৃতিত্ব তিনি দিয়েছেন সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে। তিনি বলেন, 'ঐক্যই শক্তি। কারণ এ কেউ ওই কংক্রিটের স্ল্যাব তুলতে পারত না। এটি ছিল খুবই বড় আর ভারী।'

তিনি আরও বলেন, 'স্থির দাঁড়িয়ে থাকার চেয়ে কাজ করা ভালো। সামান্য সাহায্যও অনেক বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।'

এলাকার খবর

সম্পর্কিত