মাতৃত্ব ও পরিবারকে সময় দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও দপ্তর হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ক্যারোলিন লিভিট (২৮)। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ক্যারোলিনের বিদায়ের তথ্য জানান। তাঁকে নিজের ‘সবচেয়ে বিশ্বস্ত কর্মীদের একজন’ উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, শিশু সন্তান ও পরিবারকে সময় দিতে ক্যারোলিন প্রেস সেক্রেটারির পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি ক্যারোলিনের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানোর কথাও বলেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, হোয়াইট হাউসের ইতিহাসে ক্যারোলিন অন্যতম সেরা প্রেস সেক্রেটারি ছিলেন। ভবিষ্যতে তিনি ট্রাম্পের একজন অনানুষ্ঠানিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করবেন এবং রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে থাকবেন।
২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে বিদায় নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি নোম, শ্রমমন্ত্রী লোরি মিশেল শ্যাভেজ ডি রেমার এবং অভিবাসন ও কাস্টমস বিষয়ক পুলিশ বাহিনীর প্রধান টড লিওন।
তবে তাঁদের সঙ্গে ক্যারোলিন লিভিটের বিদায়ের পার্থক্য রয়েছে। অন্যরা প্রশাসনের চাপের মুখে পদত্যাগ করলেও ক্যারোলিন পারিবারিক ও মাতৃত্বজনিত কারণে পদ ছাড়ছেন।
ক্যারোলিন ও তাঁর স্বামী নিকোলাস গত মে মাসে দ্বিতীয় সন্তান কন্যা ভিভিয়ানার বাবা-মা হয়েছেন। সন্তানের জন্মের আগে গত এপ্রিলে তিনি মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যান। পরে মাঝে মাঝে কর্মস্থলে ফিরলেও নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেননি। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে সর্বশেষ তিনি জুলাইয়ের মাঝামাঝি ব্রিফিং করেন।
ট্রাম্পের সঙ্গে ক্যারোলিনের রাজনৈতিক সম্পর্ক শুরু হয় ২০২১ সালে। ওই বছর তিনি ট্রাম্পের ব্যক্তিগত প্রেসসচিব ও বক্তৃতা লেখক হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ও বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে পরিচিতি পান। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প জয়ী হওয়ার পর ২০২৫ সালে তাঁকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি নিয়োগ করা হয়।
সূত্র: বিবিসি
শু/আজা