বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে লস অ্যাঞ্জেলেসে মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন ও বেলজিয়াম। টুর্নামেন্ট যত শেষের দিকে গড়িয়েছে, ততই ছন্দে ফিরেছে বেলজিয়াম। তবে শেষ চারে ওঠার লড়াইয়ে তাদের সামনে রয়েছে এবারের অন্যতম ফেভারিট স্পেন।
গ্রুপ ‘জি’র চ্যাম্পিয়ন বেলজিয়াম শেষ ৩২-এ সেনেগালকে অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলে হারানোর পর শেষ ষোলোতে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে জোড়া গোল করেন চার্লস ডি কেতেলারে, আর বদলি হিসেবে নেমে গোল করেন হান্স ভানাকেন ও রোমেলু লুকাকু।
চলতি বিশ্বকাপে লুকাকুর তিনটি গোলই এসেছে বদলি হিসেবে নেমে। তবে দুর্দান্ত ফর্মে থাকলেও স্পেনের বিপক্ষে তাকে আবারও বেঞ্চ থেকে নামানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এবারের আসরে বেলজিয়াম প্রতি ম্যাচে গড়ে ২১.৪টি শট নিয়েছে এবং শট থেকে গোল করার হার ১২.১ শতাংশ, যা তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে অন্যতম সেরা।
অন্যদিকে, স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের রক্ষণভাগ। শেষ ষোলোতে পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়ে টানা ষষ্ঠ ক্লিনশিটের রেকর্ড গড়েছে তারা। বিশ্বকাপে টানা ১০ ঘণ্টা ৯ মিনিট কোনো গোল হজম করেনি স্প্যানিশরা। চলতি আসরে প্রতি ম্যাচে তাদের প্রত্যাশিত গোল হজমের গড় মাত্র ০.৩০।
আক্রমণে স্পেনের ভরসা ১৭ বছর বয়সী লামিন ইয়ামাল। এবারের বিশ্বকাপে তিনি ইতোমধ্যে ১৭টি সফল ড্রিবল সম্পন্ন করেছেন। মাঝমাঠে রদ্রির ৮০টি লাইন-ব্রেকিং পাসও স্পেনের আক্রমণ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে বড় টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে খেলা ছয়টি ম্যাচের সবকটিতেই জয় পেয়েছে স্পেন। তবে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে টাইব্রেকারে স্পেনকে বিদায় করার স্মৃতি বেলজিয়ামকে আত্মবিশ্বাস জোগাতে পারে।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অবশ্য স্পেনের পক্ষেই। ২০১৬ সালের পর দুই দল আর মুখোমুখি হয়নি। এর আগে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে বেলজিয়ামের বিপক্ষে টানা ১১ ম্যাচ অপরাজিত ছিল স্পেন, যেখানে তারা জিতেছিল ৯টি ম্যাচ।
অপটা সুপারকম্পিউটারের হিসাবেও এগিয়ে স্পেন। নির্ধারিত সময়ে তাদের জয়ের সম্ভাবনা ৫৯.৩ শতাংশ, বেলজিয়ামের ১৮.৩ শতাংশ এবং ড্রয়ের সম্ভাবনা ২২.৪ শতাংশ। অতিরিক্ত সময় ও টাইব্রেকারসহ হিসাব করলে স্পেনের সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ৬৯.৫ শতাংশ।
শু/আজা