৯৯ বছরের ইজারা বাতিল, বৃহস্পতিবার হস্তান্তর; নতুন নাম ‘ধানমন্ডি ক্রিকেট মাঠ’, উন্মুক্ত হবে সাধারণের জন্য
দীর্ঘদিনের পরিচিত ‘আবাহনী মাঠ’ আর আবাহনী লিমিটেডের নিয়ন্ত্রণে থাকছে না। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে ৯৯ বছরের জন্য ইজারা নেওয়া ধানমন্ডির ১০ দশমিক ৬৫ একর আয়তনের মাঠটির ইজারা বাতিল করে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে মাঠটির নাম পরিবর্তন করে ‘ধানমন্ডি ক্রিকেট মাঠ’ রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার মাঠটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে। হস্তান্তর শেষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা মাঠটির নিয়ন্ত্রণ যাবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে। এরপর মাঠটি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা বুধবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
ধানমন্ডির ৮ ও ৯ নম্বর সড়কের মাঝখানে অবস্থিত মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া ক্লাব আবাহনী লিমিটেড ব্যবহার করে আসছে। ১৯৯৬ সালে মাঠের ৯ দশমিক ৭৬ একর জমি ইজারা চেয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে আবাহনী। পরে ১৯৯৮ সালে মাঠের সিংহভাগ এবং ২০১০ সালে অবশিষ্ট ০ দশমিক ৮৯ একরসহ মোট ১০ দশমিক ৬৫ একর জমি ৯৯ বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আবাহনী মাঠের নাম পরিবর্তন হচ্ছে। সরকার আবাহনীর ইজারা বাতিল করে মাঠটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মাঠটির পাশে আবাহনী ক্লাবের পুরোনো অবকাঠামো রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ক্লাবটিতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ সময় ক্লাবের বিভিন্ন ট্রফিও লুট হয়। সেগুলো ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন ক্লাবের কর্মকর্তা ও সমর্থকদের অনেকে।
এদিকে মাঠের বড় অংশে বর্তমানে শেখ কামাল স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ চলছে। আধুনিক এই কমপ্লেক্সে ক্লাবের কার্যালয়, সুইমিংপুল, জিমনেশিয়ামসহ বিভিন্ন ইনডোর ক্রীড়া সুবিধা রাখার পরিকল্পনা ছিল আবাহনীর।
১৯৭২ সালে আবাহনী ক্রীড়া চক্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই মাঠে ক্লাবটির অনুশীলন ও বিভিন্ন খেলাধুলার কার্যক্রম চলে আসছে। দীর্ঘদিনের সেই ব্যবহারের কারণেই মাঠটি ক্রীড়াঙ্গনে ‘আবাহনী মাঠ’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।
তবে এই জায়গার ইতিহাস আরও পুরোনো। ষাটের দশকে ধানমন্ডির এ স্থানটি ইটভাটা হিসেবে ব্যবহৃত হতো। পরে জায়গাটি খেলার মাঠ হিসেবে গড়ে তোলা হয়। স্বাধীনতার পর আবাহনী প্রতিষ্ঠিত হলে মাঠটি ক্লাবটির অনুশীলন ও ক্রীড়া কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
সরকারি নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর মাঠটির ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহার কীভাবে হবে, তা নিয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় পরিকল্পনা করছে। মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মাঠটি সাধারণ মানুষের খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুধু ধানমন্ডির এই মাঠ নয়, রাজধানীর মিরপুরের আরও দুটি মাঠের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব মাঠ সরকারি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর কীভাবে পরিচালনা করা হবে, সে বিষয়েও পরিকল্পনা করছে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষ হলে প্রায় তিন দশকের ইজারা ব্যবস্থার অবসান ঘটবে ধানমন্ডির এই মাঠে। একই সঙ্গে ‘আবাহনী মাঠ’ নামে দীর্ঘদিনের পরিচিত জায়গাটি সরকারি ব্যবস্থাপনায় নতুন নাম ‘ধানমন্ডি ক্রিকেট মাঠ’ হিসেবে যাত্রা শুরু করবে।
**ট্যাগ:** আবাহনী মাঠ, আবাহনী লিমিটেড, ধানমন্ডি ক্রিকেট মাঠ, ধানমন্ডি, আবাহনী ক্রীড়া চক্র, মাঠের ইজারা, ৯৯ বছরের ইজারা, ইজারা বাতিল, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, শেখ কামাল স্পোর্টস কমপ্লেক্স, ঢাকার খেলার মাঠ, ধানমন্ডির মাঠ, আবাহনী