জবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ: আহত অন্তত ১৫, ক্যাম্পাস ও হাসপাতালে উত্তেজনা

আজাদ প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফ এবং শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইয়াসিন সাইফ রয়েছেন। তাদের ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইউজিসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে দাবি-দাওয়া নিয়ে কথা বলাকে কেন্দ্র করে প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে তা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় রূপ নেয়।

সংঘর্ষের পর ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাস ছেড়ে গেলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে আহতদের দেখতে ও খোঁজ নিতে ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জড়ো হলে হাসপাতালের বাইরে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি কয়েকজনের হাতে দেশীয় অস্ত্রও দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের পর আহতরা হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে হাসপাতালেও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগের কোতোয়ালী জোনের সহকারী কমিশনার ফজলুল হক বলেন, ইউজিসি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দাবি-দাওয়া উপস্থাপনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে দুই ছাত্রসংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষে পরিস্থিতি অবনতির দিকে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট ও বিভিন্ন দাবি তুলে ধরতে ইউজিসি চেয়ারম্যানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তার অভিযোগ, একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে অনুষ্ঠান পণ্ড করার চেষ্টা করে এবং পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তোলে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা সেই প্রচেষ্টা প্রতিহত করেছে।

অন্যদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফ অভিযোগ করেন, আলোচনা সভায় যোগ দিতে গেলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তিনি দাবি করেন, প্রক্টরিয়াল টিমের সঙ্গে আলোচনার মধ্যেই লাঠিসোঁটা নিয়ে ছাত্রদলের একটি দল তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে একাধিক নেতাকর্মী আহত হন।

হাসপাতালের ভেতরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। চিকিৎসা নিতে আসা অনেকেই নিরাপত্তার অভাবে হাসপাতাল ত্যাগ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কিছু সময়ের জন্য হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের মধ্যে প্রভাব বিস্তার, শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া এবং সাংগঠনিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। মঙ্গলবারের সংঘর্ষ সেই উত্তেজনারই প্রকাশ বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মতবিরোধ সংলাপের মাধ্যমে সমাধান এবং শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত