কক্সবাজারে ঝুঁকিপূর্ণ প্যারাসেলিং বন্ধে সরকারকে নোটিশ

কক্সবাজার প্রতিনিধি
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণের একটি হলো প্যারাসেইলিং বা আকাশে ওড়ার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। নীল আকাশ আর বঙ্গোপসাগরের বিশালতা একসঙ্গে উপভোগ করার এই সুযোগ নিতে প্রতিদিন ভিড় জমান হাজারো দেশি-বিদেশি পর্যটক। তবে সম্প্রতি এই জনপ্রিয় অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসটিকে ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। প্রায়শই ঘটে যাওয়া ছোট-বড় দুর্ঘটনা এবং সর্বশেষ পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পরিচালিত প্যারাসেলিং কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। 

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নিশাত ফারজানা এ নোটিশ পাঠান। নোটিশে বলা হয়, গত ১ আগস্ট কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকার দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেলিং করার সময় ছিটকে পড়ে এক পর্যটকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনাকে ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক’ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এটি পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকির ইঙ্গিত দেয় এবং এ দায় প্রশাসন কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।

নোটিশে আরও বলা হয়, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত অপারেটর এবং মানসম্মত যন্ত্রপাতি ছাড়াই প্যারাসেলিং পরিচালিত হচ্ছে। এতে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার পর প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তার বক্তব্য থেকে জানা যায়, প্যারাসেলিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কোনো অনুমোদন ছিল না। একইসঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পর্যটকদের নিরাপত্তায় পর্যটক ম্যাজিস্ট্রেটরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং দুর্ঘটনাটি তাদের অগোচরে ঘটেছে।

নোটিশে বলা হয়, প্রশাসনের তদারকির দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের অননুমোদিত ও ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম চলতে থাকা প্রশাসনিক ব্যর্থতারই প্রমাণ এবং এতে ভবিষ্যৎ পর্যটকদের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

নোটিশে আট দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— কক্সবাজারে পরিচালিত সব ঝুঁকিপূর্ণ প্যারাসেলিং কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করা, সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের লাইসেন্স, অনুমোদন ও নিরাপত্তা মান যাচাই, সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও ট্যুরিস্ট ম্যাজিস্ট্রেটদের দায়িত্ব পালনে আরও সতর্কতা নিশ্চিত করা, নিহত পর্যটকের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং দরিয়ানগরের 'ফ্লাই এয়ার সি স্পোর্টস প্যারাসেইলিং পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান'- এর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা জনসম্মুখে তুলে ধরা।
পর্যটন উদ্যোক্তা নুরুল কবির পাশা বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে করণীয় পদক্ষেপ ​কক্সবাজারের প্যারাসেইলিং খাতকে একটি নিরাপদ, মানসম্মত ও আন্তর্জাতিক মানের অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম হিসেবে গড়ে তুলতে নীতিমালা গ্রহন করা অত্যন্ত জরুরি বন্ধ করে দেয়া ঠিক হবে না।

এ ছাড়া ভবিষ্যতে প্যারাসেলিংসহ সব ধরনের অ্যাডভেঞ্চার পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা নির্দেশিকা (স্ট্যান্ডার্ড সেফটি গাইডলাইন) ও একটি কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামো (রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক) প্রণয়ন ও কঠোরভাবে বাস্তবায়নেরও দাবি জানানো হয়েছে।

 

শু/আজা

বিষয়:

কক্সবাজার
এলাকার খবর

সম্পর্কিত