পদত্যাগের গুঞ্জন অস্বীকার করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) দায়িত্ব পাওয়া বাহারুল আলম। তিনি বলেছেন, পদত্যাগ করার খবরটি সঠিক নয়। অবসরে যাওয়া বাহারুলকে ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর দুই বছরের চুক্তিতে আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুদিন পর বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের আগ মুহূর্তে তার পদত্যাগের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে আলোচনা চলে পুলিশ সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও। এর মধ্যে রোববার রাতে যোগাযোগ করা হলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে আইজিপি বলেন, “নো, এমন কিছু হয়নি। বিষয়টি ঠিক নয়।”
আইজিপির পদত্যাগের গুঞ্জনের বিষয়ে এদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি বার্তা আসে পুলিশ সদর দপ্তরের জনসংযোগ বিভাগ থেকে। বার্তায় বলা হয়, “আইজিপির পদত্যাগসংক্রান্ত সংবাদটি সঠিক নয়। এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হচ্ছে।”
তবে এদিন পুলিশ সদর দপ্তরে কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক অভ্যন্তরীণ বৈঠকে আইজিপি পদত্যাগের ‘ইচ্ছা প্রকাশ’ করেছিলেন বলে এক কর্মকর্তা দাবি করেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, “মিটিংয়ে স্যার বলেছেন, আমি আর থাকব না। থাকতে ইচ্ছা করছে না, চলে যাব।”
এছাড়া এদিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আইজিপি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তবে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।
নির্বাচনের আগ মুহূর্তে গত জানুয়ারিতে আইজিপি তার সরকারি পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের আবেদন করেছিলেন। এরমধ্যে রোববার তার মেয়াদ শেষের প্রায় ৯ মাস আগেই পদত্যাগের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।
গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার পতনের দিন আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন আত্মগোপনে চলে যান। পরদিন মধ্যরাতে নতুন পুলিশ প্রধানের দায়িত্ব পান মো. ময়নুল ইসলাম।
এরপর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনার মুখে তিন মাসের মাথায় ২০ নভেম্বর আইজিপি ময়নুল ইসলামকে সরিয়ে দেয় সরকার। সেদিনই অবসরে যাওয়া বাহারুল আলমকে দুই বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে আইজিপি বানানো হয়।
দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় এক বছরের মাথায় গেল ডিসেম্বরে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নাম আসায় সমালোচনার মুখে পড়েন বাহারুল। তার পদত্যাগের দাবিতে কয়েক দিন আন্দোলনও চলে।
ওই সময় পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেছিলেন, “তদন্ত কমিশন তদন্ত করেছে, এখন সরকার যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নেবে। এখানে আমার দেখার বা বলার কিছু নেই।”
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সময় পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধান ছিলেন বাহারুল।
পিলখানা হত্যাকাণ্ড তদন্তে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে এসবি প্রধান হিসেবে তার ‘দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার’ কথা বলা হয়েছে।
আইজিপি বাহারুল বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ১৯৮৪ ব্যাচের কর্মকর্তা। ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি জাতিসংঘ সদর দপ্তরের শান্তিরক্ষা বিভাগে পুলিশ লিয়াজোঁ অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৫ সালে আফগানিস্তানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের সিনিয়র পুলিশ অ্যাডভাইজার হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।
ক্রোয়েশিয়া, সার্বিয়া, কসোভো ও সিয়েরা লিওনেও দায়িত্ব পালন করেন। দুই দফা ‘পদোন্নতিবঞ্চিত’ এই কর্মকর্তা অবসরে যান ২০২০ সালে।
সূত্র : বিডিনিউজ