বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে চার নতুন মুখ, সামনে নেতৃত্বের নতুন সমীকরণ

আজাদ প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
রুহুল কবির রিজভী, আমান উল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম ডোনার ও ইসমাইল জবিউল্লাহ। ছবি:
রুহুল কবির রিজভী, আমান উল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম ডোনার ও ইসমাইল জবিউল্লাহ। ছবি:

বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে যুক্ত হয়েছেন চার নতুন সদস্য। তাঁরা হলেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম ডোনার ও ইসমাইল জবিউল্লাহ। শনিবার দলের সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেনের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলের সাংগঠনিক গতিশীলতা বাড়ানো এবং দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁদের স্থায়ী কমিটিতে মনোনীত করা হয়েছে। চারজনের অন্তর্ভুক্তির মধ্য দিয়ে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে নতুন নেতৃত্বের একটি স্তর যুক্ত হলো। তবে এর তাৎপর্য শুধু চারটি পদ পূরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করা এবং নির্বাচিত হলে তাঁর দলীয় পদ ছাড়ার সম্ভাবনার কারণে স্থায়ী কমিটিতে আরও পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

রিজভীর পদোন্নতি, পুরোনো নেতৃত্বের নতুন জায়গা

চার নতুন সদস্যের মধ্যে রুহুল কবির রিজভীর অন্তর্ভুক্তি সবচেয়ে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন দলের নেতাকর্মীরা। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সাংগঠনিক ও দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় এই নেতা এতদিন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচি, সংবাদ সম্মেলন এবং দলের অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে রিজভী দীর্ঘদিন ধরেই দৃশ্যমান মুখ। ফলে স্থায়ী কমিটিতে তাঁর অন্তর্ভুক্তিকে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে আমানউল্লাহ আমান বিএনপির পুরোনো ও পরিচিত রাজনৈতিক নেতা। ফরহাদ হালিম ডোনার এবং ইসমাইল জবিউল্লাহও দীর্ঘদিন ধরে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করার পর এবার তাঁরা দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে জায়গা পেলেন।

১৯ সদস্যের কমিটিতে এখন ১৭ জন

বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে ১৯ সদস্য থাকার কথা। নতুন চারজনকে যুক্ত করার আগে কমিটিতে সদস্য ছিলেন ১৩ জন। তাঁরা হলেন—তারেক রহমান, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এর মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য জমির উদ্দিন সরকার গত ১২ জুলাই মারা যান। ফলে চার নতুন সদস্য যুক্ত হওয়ার পর কার্যকর সদস্যসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে। অর্থাৎ, কাঠামোগতভাবে এখনো দুটি পদ খালি রয়েছে।

ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে আবারও পরিবর্তন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বর্তমান সমীকরণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সম্ভাব্য বিদায়। মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী করা হয়েছে। তিনি নির্বাচিত হলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বের সঙ্গে দলীয় পদে থাকা নিয়ে সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাঁকে মহাসচিবের পদ ছাড়তে হবে। সেক্ষেত্রে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদও শূন্য হবে। ফলে চার নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার পরও বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এখানেই শেষ হচ্ছে না। বরং ফখরুলের সম্ভাব্য বিদায়ের পর আরও সদস্য মনোনয়নের সুযোগ তৈরি হবে।

শুধু পদ পূরণ নয়, নেতৃত্বের পুনর্বিন্যাসও

বিএনপির জন্য এই পরিবর্তনের সময়টিও গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলন, সরকার পরিচালনা এবং বিরোধী রাজনীতির পর দলটি এখন নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি। এই পরিস্থিতিতে স্থায়ী কমিটিতে কারা থাকছেন, কারা নতুন করে জায়গা পাচ্ছেন এবং কোন নেতারা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে উঠে আসছেন—তা দলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশলের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। রিজভীর মতো মাঠ ও কেন্দ্র—দুই পর্যায়েই সক্রিয় নেতার অন্তর্ভুক্তি দলের সাংগঠনিক দিককে শক্তিশালী করতে পারে। একই সঙ্গে আমানউল্লাহ আমানের মতো পুরোনো নেতার প্রত্যাবর্তন স্থায়ী কমিটিতে অভিজ্ঞতার ভারসাম্য তৈরি করতে পারে।

তবে সামনে আরও বড় প্রশ্ন মহাসচিব পদ নিয়ে। মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব কে হবেন—সেটি দলটির অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। অর্থাৎ, চার নতুন সদস্যের অন্তর্ভুক্তি বিএনপির স্থায়ী কমিটির একটি পরিবর্তন হলেও এর প্রভাব কেবল চারজনের পদায়নে সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা কম। ফখরুলের সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হওয়া, মহাসচিব পদে পরিবর্তন এবং স্থায়ী কমিটির বাকি দুটি শূন্য পদ পূরণ—সব মিলিয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারণী কাঠামোতে সামনে আরও বড় রদবদল আসতে পারে।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত