জামায়াত সংসদেও কথা বলবে, বাইরেও আন্দোলন করবে

ময়মনসিংহ ব্যুরো
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান । ছবি- ভিডিও থেকে নেয়া ছবি:
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান । ছবি- ভিডিও থেকে নেয়া ছবি:

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকার দায়িত্ব পালনে জনগণকে দেয়া ওয়াদা লঙ্ঘন করেছে, তারা জনগণকে অপমান করেছে। মানুষের অধিকার আদায়ে জামায়াতে ইসলামী সংসদেও কথা বলবে, বাইরেও আন্দোলন করবে। শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনে সহিংসতায় আহত সিরাজুল ইসলামকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেখতে গিয়ে শনিবার (১১ এপ্রিল) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব বলেন তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, যারা মানুষ খুন করে পার্লামেন্টে যায়, তারা মানুষের কী উপকার করবে। মানুষের অধিকার আদায়ে এক চুলও কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অধিকার আদায়ে প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলন করা হবে।

তিনি বলেন, গত ৯ এপ্রিল বাংলাদেশে জাতীয় সংসদের দুইটি উপ-নির্বাচন ছিল। একটি শেরপুরে, আরেকটি বগুড়ায়। আমরা আশা করেছিলাম যে বিগত নির্বাচন যেভাবেই হোক না কেন, এখন একটা সরকার হয়ে গেছে; আমরা কেউ বসেছি সরকারি দলে, কেউ বসেছি বিরোধী দলে। এখন সুন্দরভাবে দেশটা সামনের দিকে এগিয়ে যাক। কিন্তু এই দুটি নির্বাচনেও ব্যাপক অনিয়ম, বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতি, সহিংসতা এবং ক্ষেত্রবিশেষে এটি ভয়াবহ সন্ত্রাসের রূপ নিয়েছে। এরকমই একটা বেদনাদায়ক ঘটনা ঘটেছে শেরপুর-৩ আসনে। 

তিনি আরও বলেন, যখন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল, তার আগেও এই ধরনের সহিংসতায় আমাদের একজন উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমকে খুন করা হয়। তার সাথে আরও তিনজন মারাত্মকভাবে আক্রান্ত ও আহত হয়েছিলেন। তারা এখনো চিকিৎসা নিচ্ছেন, এখনো আশঙ্কামুক্ত হননি। আবার এই জায়গায় যিনি আমাদের ক্যান্ডিডেট ছিলেন, তিনি ভোটের আগে ইন্তেকাল করলেন; যার কারণে ভোটটা স্থগিত হয়ে গেল।

জামায়াত আমির বলেন, এই স্থগিত নির্বাচনটাই ছিল ৯ এপ্রিল। এ নির্বাচনেও একজন মানুষ আগে মারা গেল। আবার এখন একজন বয়স্ক মানুষ— আমি দেখলাম যে উনার বয়স সম্ভবত ৭৮-৮০ বছরের কাছাকাছি হবে—সেইরকম একজন মানুষকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় কোপ দেওয়া হয়েছে। আঘাত একটাই, কিন্তু গুরুতর। তিনি সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ছিলেন। আজকে দেখলাম যে তিনি সংজ্ঞা ফিরে পেয়েছেন।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে অতীতেও সন্ত্রাস ছিল, হানাহানি ছিল, বিশৃঙ্খলা ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাইয়ে আমরা এত রক্ত দিলাম, তারপরে আর রক্ত কেন দিতে হবে? রাজনীতির জন্য আমরা তো আশা করেছিলাম যে রক্ত দেওয়াটা ওখানেই শেষ হবে। রাজনীতির ময়দানে সুস্থতা ফিরে আসবে। রাজনীতি হবে ভালোবাসা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর ভিত্তি করে। আমার আদর্শ আমার কাছে, আরেকজনের আদর্শ তার কাছে। আমি যেমন আমার আদর্শকে ভালোবাসি, আরেকটা লোকেরও তার আদর্শকে ভালোবাসার অধিকার আছে। এটা তার নাগরিক অধিকার। এখানে মুখ চলবে, হাত চলবে কেন? মুখ চলবে ভদ্রভাবে, অভদ্রভাবে নয়।

তিনি আরও বলেন, অতীতে এই সংসদে দাঁড়িয়ে জনগণের কল্যাণের চাইতে পরস্পরের চরিত্রহননে সময় ব্যয় হয়েছে বেশি। আমরা কাদের টাকায় সংসদে বসি? জনগণের ট্যাক্সের টাকায়। প্রতি মুহূর্তে সেখানে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা খরচ হয়; এটা কি মামুলি কথা? এই টাকা খরচ করার ক্ষেত্রে আমাদের কলিজা কাঁপবে না?

জামায়াত আমির বলেন, যারা এই পার্লামেন্টে যাবেন, তারা যদি মানুষ খুন করে পার্লামেন্টে যান, তারা গিয়ে দেশবাসীর জন্য কী করবেন? মানুষের জীবন নিয়ে আমাকে পার্লামেন্টে যেতে হবে কেন? আমি তো যাব মানুষের জীবন, সম্পদ এবং ইজ্জতের পাহারাদার হওয়ার জন্য। সেই আমার হাতেই যদি আগে জীবন চলে যায়, ইজ্জত চলে যায় বা সম্পদ ধ্বংস হয়, তাহলে আমি তো আসলে এই ধরনের প্রতিনিধিত্বের যোগ্যতা রাখি না।

গণতান্ত্রিক একটা দেশে তার কাঠামো নির্বাচনের ওপর নির্ভরশীল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই নির্বাচনে যেন আর কোনো সহিংসতা না হয়, আর কোনো মায়ের বুক খালি না হয়, আর কোনো বোন যেন বিধবা না হয়, আর কোনো সন্তান যেন এতিম না হয়। আমরা চাইব আদর্শের লড়াই হোক, হাতের লড়াই নয়, অস্ত্রের লড়াই নয়।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত