রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে জোটের নেতারা তার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ সময় ১১ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অলি আহমদের মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হয়েছেন ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সমর্থক হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আব্দুল্লাহ আল আমিন।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সমালোচনা ও বিতর্কের ঊর্ধ্বে একজন যোগ্য প্রার্থী হিসেবে কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে জাতি ইতিবাচকভাবে দেখবে বলে তারা আশা করছেন।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র চর্চায় একটি নতুন ধারা সৃষ্টি করতে চায় ১১ দলীয় জোট। প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া কোনো নির্বাচন তারা চান না। সে কারণেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অলি আহমদকে প্রার্থী করা হয়েছে।
হামিদুর রহমান আজাদ আরও বলেন, অলি আহমদের মনোনয়নপত্রে প্রয়োজনীয় সব তথ্য ও উপাত্ত সঠিকভাবে পূরণ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের যাচাই-বাছাইয়ে মনোনয়নপত্রটি বৈধতা পাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ভোটাধিকার প্রসঙ্গে তিনি সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বিষয়টি তুলে ধরেন। তার বক্তব্য, এই অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ ও ভোট দেওয়ার সুযোগ সীমিত। ফলে অনেক ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী ভোট দিতে পারেন না।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা। একাধিক প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশনকক্ষে ভোট গ্রহণ হবে।
এর আগে বিএনপি রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী হিসেবে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম ঘোষণা করে এবং তার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেয়। ফলে এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। এরপর সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদের মনোনয়নপত্র বৈধ হলে আগামী ২০ আগস্ট সংসদে ভোট হবে। তবে সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে নির্বাচনের ফলাফল অনেকটাই নির্ধারিত—এমন রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যেই অলি আহমদের প্রার্থিতা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করার একটি সুযোগ তৈরি করেছে।