ব্যয় ধরা হয়েছে আড়াই হাজার কোটি টাকা

কয়লার রামপালে এবার ৪৪২ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র

আজাদ প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৮
 ছবি:

বাগেরহাটের রামপাল নামটি এত দিন আলোচনায় ছিল মূলত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে। সুন্দরবনের কাছাকাছি মৈত্রী সুপার থার্মাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে পরিবেশগত ঝুঁকির প্রশ্নে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। এবার সেই রামপালেই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশে দেশের অন্যতম বড় সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫০২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) নিজস্ব অর্থায়ন এবং বিদ্যুৎ খাত উন্নয়ন তহবিলের সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রকল্পের প্রস্তাব এখন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের অপেক্ষায়।

‘কন্সট্রাকশন অব ৪৪২ মেগাওয়াট পিক (ডিসি) সোলার ফটোভোলটাইক গ্রিড-কানেক্টেড পাওয়ার প্ল্যান্ট অ্যাট ব্লক-বি, রামপাল’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব করেছে বিউবো। চলতি বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে ৩৭৫ কোটি টাকা বিউবোর নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়ার কথা। বাকি ২ হাজার ১২৭ কোটি টাকা বিদ্যুৎ খাত উন্নয়ন তহবিল থেকে ২ শতাংশ সুদে নেওয়া হবে। তবে প্রকল্পের ডিপিপি যাচাই করতে গিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) কয়েকটি ব্যয় কমানোর সুপারিশ করেছে। সংশোধিত প্রস্তাব পাওয়ার পর প্রকল্পটি একনেকে তোলার প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সিনিয়র সহকারী প্রধান শিবরাজ চৌধুরী বলেন, সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিষয়ে পিইসি সভা হয়েছে। সভায় প্রকল্পের কয়েকটি ব্যয়ের খাত কমানোর মতামত দেওয়া হয়েছে। সংশোধনের জন্য প্রকল্পটি বিউবোর কাছে পাঠানো হয়েছে।

রামপালে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য নতুন করে জমি অধিগ্রহণ করতে হবে না। ২০১২ সালে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য রামপালে মোট ১ হাজার ৮৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ করেছিল সরকার। জমিটি দুটি অংশে ভাগ করা হয়—ব্লক-এ ও ব্লক-বি।

ব্লক-এতে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে মৈত্রী সুপার থার্মাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হয়েছে। আর ব্লক-বির ৯১৮ দশমিক ৫০ একর জমি রয়েছে বিউবোর অধীনে। সেখানে আগে থেকেই ভূমি উন্নয়নসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কাজ করা হয়েছে।

ব্লক-বির পুরো জমি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজে ব্যবহার করা যাবে না। সেখানে ৭৬ দশমিক ৬৩ একর গ্রিনবেল্ট, ২৩ দশমিক ৮৭ একর বন্যা প্রতিরোধ বাঁধ, ১২ একর দিঘি এবং ৩০ একর লেক রয়েছে। এসব বাদ দেওয়ার পর ব্যবহারযোগ্য জমির পরিমাণ দাঁড়ায় ৬৮৫ একর। সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় এই জমিতেই ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সুপারিশ করা হয়েছে।

ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি ২০২৫ সালের মে মাসে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ করে। সমীক্ষায় প্রকল্পটিকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

প্রতি মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা স্থাপনে নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। নতুন করে জমি কেনা বা ভূমি উন্নয়নের প্রয়োজন না থাকায় প্রকল্পের ব্যয় তুলনামূলক কম রাখা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে বিউবো।

বিউবোর সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি পুরোপুরি দেশীয় অর্থায়নে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ খাতে উন্নয়ন সহযোগীদের অবস্থানের বিষয়টিও এই অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত। বিউবো বলছে, রামপালের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে উন্নয়ন সহযোগীদের আপত্তি থাকায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি দেশীয় অর্থায়নে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত পিইসি সভায় প্রকল্পের বিভিন্ন ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ডিপিপিতে বৈদ্যুতিক ব্যয়, কমিশনিং ও অন্যান্য খাতে ৬৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা, সম্মানী ২৪ লাখ ৬১ হাজার টাকা, আপ্যায়ন ১৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, স্টেশনারি ৩১ লাখ, কম্পিউটার উপকরণ ২২ লাখ, কম্পিউটার ১২ লাখ এবং আসবাবপত্রে ২১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব ছিল। এসব খাতে ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে কমিয়ে আনার সুপারিশ করেছে পিইসি।

প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ১৩ জন কর্মকর্তা ও একজন কর্মচারী প্রেষণে এবং ১১ জন কর্মী আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্প শেষ হওয়ার পর কেন্দ্র পরিচালনায় প্রয়োজন হবে ২৫৬ জন জনবল। তাঁদের বেতন-ভাতাসহ বছরে প্রায় ৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয় হবে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রকল্প শেষে এই জনবলের প্রয়োজনীয়তা, জনবল কাঠামো, কারিগরি কর্মীদের বিবরণ এবং পরিচালন ব্যয়ের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার সুপারিশ করেছে পরিকল্পনা কমিশন।

কেন্দ্র নির্মাণের সময় ও পরে ব্যবহারের জন্য একটি জিপ, একটি মাইক্রোবাস ও একটি পিকআপ ব্যবহারের প্রস্তাবে সম্মতি দেওয়া হয়েছে। তবে সহকারী ও উপসহকারী প্রকৌশলীদের জন্য ছয়টি মোটরসাইকেল কেনার প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি পরিকল্পনা কমিশন।

দেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পেছনে বড় কারণ হচ্ছে জ্বালানি নিরাপত্তা। শিল্পায়ন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তার, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বৃদ্ধি এবং মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়ছে। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।

সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ১০ শতাংশ বা ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই লক্ষ্য পূরণে রামপালের ৪৪২ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে পারে বলে মনে করছে বিউবো।

ইন্টিগ্রেটেড এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার মাস্টারপ্ল্যান ২০২৩ অনুযায়ী, ২০৩০ সালে দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা দাঁড়াতে পারে ২৯ হাজার ২৫৭ মেগাওয়াট। ২০৪১ সালে তা ৫৮ হাজার ৫৯৭ এবং ২০৫০ সালে ৯৬ হাজার ৭৬৭ মেগাওয়াটে পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে।

এর বিপরীতে দেশে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড ১৬ হাজার ৭৯৪ মেগাওয়াট। ২০২৫ সালের ২৩ জুলাই এই উৎপাদন হয়েছিল। অর্থাৎ ভবিষ্যতের বাড়তে থাকা চাহিদা মেটাতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি কোন উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

রামপালের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র সেই জায়গাতেই আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। একই এলাকায় একদিকে কয়লাভিত্তিক বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র, অন্যদিকে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎসে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

তবে প্রকল্পটির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বাস্তবায়ন। ৬৮৫ একর জমিতে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, উৎপাদন সক্ষমতা কতটা কাজে লাগবে এবং কেন্দ্রটি চালু হওয়ার পর বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ কত দাঁড়াবে—এসব প্রশ্নের উত্তর প্রকল্প বাস্তবায়নের পরই স্পষ্ট হবে।

আর রামপাল যেহেতু সুন্দরবনের কাছাকাছি, তাই পরিবেশগত ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘিরে দীর্ঘদিনের পরিবেশগত বিতর্কের মধ্যেই একই এলাকায় বড় সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নতুন প্রকল্পটি যেন স্থানীয় পরিবেশ, জলপ্রবাহ ও বিদ্যমান সবুজ বেষ্টনীর ওপর বিরূপ প্রভাব না ফেলে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

সব মিলিয়ে রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিকল্পনা দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বড় একটি পদক্ষেপ হতে পারে। তবে প্রকল্পটির সাফল্য নির্ভর করবে অনুমোদনের পর দ্রুত ও স্বচ্ছ বাস্তবায়ন, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর।

শিগগির রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইসলামের পতাকা উড়বে: চরমোনাই পীর

বাড়তি অ্যাথলেটদের নিজেদের ব্যবস্থা করতে বলছে জাপান

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাবে ৩৩৮ এজেন্সি, তবুও কেন সংশয়?

জামায়াতের তুলনায় আওয়ামী লীগের অপরাধ লঘুই বলা যায়: রাশেদ খাঁন

মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়ে ‘নজর রাখছে’ ভারত

কূটনৈতিক চাপে সিদ্ধান্ত বদল, উদ্ধারকাজে বিদেশি সহায়তা নেবে নেপাল

নেপালের বন্যার পানি কি বাংলাদেশে আসবে, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

ইরান যুদ্ধের ছয় মাস: কে কতটা জিতল, সামনে কী

‘তৌহিদি জনতা’র বাধার পরও সোনাইয়ে ভাসলো বাইচের নৌকা

১০

নেপাল-তিব্বতে ফের উদ্ধার অভিযান, জীবিত উদ্ধারের আশায় স্বজনেরা

১১

হাসিনাকে ঘিরে টানাপোড়েন, তবুও কেন তারেক রহমানকে দিল্লিতে নিতে আগ্রহী ভারত, পেছনে যে ৫ বড় কারণ

১২

রুবেলের ঘূর্ণিতে বিধ্বস্ত নর্দার্ন টেরিটরি, সেমিফাইনালে বাংলাদেশ এইচপি

১৩

আত্রাইয়ে ৭ খাটিয়া পাশাপাশি রেখে জানাজা

১৪

পে স্কেল মন্ত্রিসভায় উঠতে পারে সোমবার, অনুমোদন হলে এ সপ্তাহেই প্রজ্ঞাপন

১৫

ইমরান খানের ছেলেদের সাক্ষাৎকারে তোলপাড়

ট্রেনের ১৭ হাজার টিকিটের জন্য ২ কোটি ৭৬ লাখ বার চেষ্টা

দিল্লিতে ভারী বৃষ্টিতে বিমান চলাচল বিঘ্ন, ব্যাপক দুর্ভোগ

মিরাজ-সৌম্যকে দলে টানতে চায় রংপুর

আওয়ামী লীগ নেত্রী গ্রেফতার

গাজায় একদিনে নিহত আরও ৭৯ ফিলিস্তিনি

বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ

মাদককারবারিদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ওসির

২ বহিরাগতের নিয়ন্ত্রণে সরকারি অফিস!

নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ ব্যতীত সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতির সুযোগ নেই: আলী রীয়াজ

১০

বনানীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২

১১

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে স্থগিত যেসব চাকরির পরীক্ষা

১২

নন-ক্যাডারে ৪১৩৬ জনকে নিয়োগের সুপারিশ

১৩

৬৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ’র গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

১৪

নারায়ণগঞ্জের আলোর বাতিঘর ‘সুধীজন পাঠাগার’

১৫

মাদ্রাসায় গ্রামীণ ফোন করপোরেট নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক

সম্পর্কিত