এশিয়ান গেমস শুরু হতে আর এক মাসও বাকি নেই। অংশগ্রহণকারী দলগুলো যখন জাপানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখনই আয়োজকদের কাছ থেকে এসেছে অপ্রত্যাশিত খবর। বাড়তি অ্যাথলেট ও কর্মকর্তাদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করতে পারবে না আয়োজক কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে নিজেদের উদ্যোগে থাকার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।
আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানের নাগোয়া ও আইচি প্রিফেকচারে অনুষ্ঠিত হবে এবারের এশিয়ান গেমস। শুরুতে প্রায় ১৫ হাজার অ্যাথলেট ও কর্মকর্তার অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে টেকবল ও প্যাডেল—দুটি নতুন ডিসিপ্লিন যুক্ত হওয়ায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১৭ হাজারে দাঁড়িয়েছে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাড়তি প্রায় ২ হাজার অ্যাথলেট ও কর্মকর্তার আবাসনের ব্যবস্থা করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। নাগোয়ার মেয়র ইচিরো হিরোসাওয়া এবং আইচি প্রিফেকচারের গভর্নর হিদেয়াকি ওমুরা সীমিত বাজেট ও জনবলের কারণে এই অতিরিক্ত চাপ সামলানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন।
অলিম্পিক গেমসের মতো এবারের এশিয়ান গেমসে আলাদা কোনো গেমস ভিলেজ তৈরি করা হয়নি। ফলে অংশগ্রহণকারী অ্যাথলেটদের থাকার ব্যবস্থা করতে আয়োজকদের বিকল্প বিভিন্ন পদ্ধতির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার অ্যাথলেটের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে ইতালীয় ক্রুজ জাহাজ ‘কোস্টা সেরেনা’য়। জাহাজটিকে অস্থায়ী আবাসন হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
এ ছাড়া প্রায় ২ হাজার অ্যাথলেটের থাকার জন্য শিপিং কনটেইনার ব্যবহার করে বিশেষ আবাসন তৈরি করা হয়েছে। বাকি অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিভিন্ন হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তবে নতুন করে টেকবল ও প্যাডেল যুক্ত হওয়ায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়ার পর সেই অতিরিক্ত চাপ সামলাতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ। এ কারণে যেসব অ্যাথলেট ও কর্মকর্তা নির্ধারিত আবাসন সুবিধার বাইরে পড়ে যাচ্ছেন, তাদের নিজেদের উদ্যোগে থাকার ব্যবস্থা করতে হবে।
১৯ সেপ্টেম্বর উদ্বোধনের পর ৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এবারের এশিয়ান গেমস। এশিয়ার বিভিন্ন দেশের হাজারো অ্যাথলেট এই আসরে অংশ নেবেন। আবাসন সংকটের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক অ্যাথলেট ও কর্মকর্তার যাতায়াত, নিরাপত্তা এবং প্রতিযোগিতার ব্যবস্থাপনাও আয়োজকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।