জামায়াতে ইসলামী গত ১৬ বছর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মধ্যে ‘লুকিয়ে ছিল’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন। তাঁর দাবি, এ কারণে জামায়াতের তুলনায় আওয়ামী লীগের অপরাধ ‘লঘুই বলা যায়’।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খাঁন এসব মন্তব্য করেন।
রাশেদ খাঁন তাঁর পোস্টে জামায়াত নেতা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, বিরোধী দলের সঙ্গে সরকার যে আচরণ করছে, আওয়ামী লীগও এমন আচরণ করেনি—তাহেরের এই বক্তব্য তাঁর আগের একটি মন্তব্যকে স্পষ্ট করেছে।
রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, তিনি আগেই বলেছিলেন, ভবিষ্যতে জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করবে। তাহেরের বক্তব্যে তিনি সেই সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেখতে পাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরও লেখেন, সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ‘লংমার্চের মাধ্যমে দেশকে অশান্ত করে’ ডিসেম্বর থেকে আওয়ামী লীগসহ জামায়াত আন্দোলনে নামবে। তবে তাঁর এই দাবির পক্ষে পোস্টে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ উল্লেখ করেননি।
রাশেদ খাঁন তাঁর পোস্টে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তাঁর দাবি, গণঅভ্যুত্থানে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং ৩০ হাজার আহত হওয়ার পরও জামায়াত নেতার বক্তব্যে ওই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের রক্তের মূল্যায়ন করা হয়নি।
তিনি আরও দাবি করেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতের বিরুদ্ধে আরও বেশি রক্তপাতের অভিযোগ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ২০২৪ সালের গণহত্যার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করার পরও কীভাবে জামায়াতের ওপর আওয়ামী লীগ দমন-পীড়ন চালায়নি—এমন বক্তব্য দেওয়া হয়।
রাশেদ খাঁনের পোস্টের শেষাংশে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক নিয়েও অভিযোগ করা হয়। তিনি লেখেন, জামায়াত গত ১৬ বছর আওয়ামী লীগের মধ্যেই ‘লুকিয়ে ছিল’; তাই আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের খারাপ সম্পর্ক থাকার কারণ নেই।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের অপরাধকে ‘নরমালাইজ’ করতে জামায়াতের পক্ষ থেকে নতুন রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করা হচ্ছে এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাহিদ ইসলাম তা উপভোগ করছেন।
তবে রাশেদ খাঁনের এসব মন্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে দেওয়া বক্তব্য। তাঁর পোস্টে উল্লেখ করা অভিযোগগুলোর বিষয়ে জামায়াত, আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বা নাহিদ ইসলামের কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়েছে কি না, তা সেখানে উল্লেখ নেই।