নভেম্বরে সফরের সম্ভাবনা নিয়ে ঢাকা-দিল্লির কর্মকর্তাদের আলোচনা; দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও গঙ্গার পানি চুক্তি আলোচনায় থাকতে পারে
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নয়াদিল্লি সফরের সম্ভাবনা নিয়ে ঢাকা ও দিল্লির কর্মকর্তাদের মধ্যে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, নভেম্বরে সুবিধাজনক সময়ে এ সফর আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে দুই দেশের কর্মকর্তারা কাজ করছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকায় দুই দেশের কর্মকর্তাদের বৈঠক অব্যাহত রয়েছে এবং সম্ভাব্য সফরের আলোচ্যসূচি নিয়েও কাজ চলছে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য স্বাভাবিক করা এবং গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির নবায়নসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় স্থান পেতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে হিন্দু।
২০২৪ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি হয়। ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধও দুই দেশের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে আছে। একই সঙ্গে তাঁর ভারতে অবস্থান এবং গত আগস্টে তাঁর ভার্চুয়াল বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা দেখা দেয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে।
এর মধ্যেই ১৭ সেপ্টেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭৬তম জন্মদিনে তাঁকে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় মোদির সুস্বাস্থ্য ও ভারতীয় জনগণের সেবায় তাঁর কর্মযজ্ঞ অব্যাহত থাকার প্রত্যাশা জানানো হয়। জবাবে মোদি তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে তাঁর শুভেচ্ছার প্রশংসা করেন।
দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগও সাম্প্রতিক সময়ে অব্যাহত রয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ভারতীয় হাইকমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ এবং শিক্ষা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও বৈঠকে বিদ্যমান সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ সংলাপ ও সহযোগিতার মাধ্যমে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে পারস্পরিক সম্মান, সমতা, ন্যায় ও স্বার্থের ভিত্তিতে আরও টেকসই করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
সম্ভাব্য সফরের সময় নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ১৫ সেপ্টেম্বর বলেছিলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবিত দ্বিপক্ষীয় সফর সম্পর্কে তখন তাঁর কাছে নতুন কোনো তথ্য ছিল না। একই ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, তারেক রহমানকে ভারত একটি দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল এবং এর পাশাপাশি ব্রিকস সম্মেলনেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
এর আগে আগস্টে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চান তারেক রহমানের ভারত সফরটি মর্যাদাপূর্ণ হোক। তিনি জানান, মোদি দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন এবং তারেক রহমানকে ভারতে যথাযথ অভ্যর্থনার আশ্বাস দিয়েছেন।
সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি সম্মেলনে যাননি এবং বাংলাদেশও কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির তখন বলেছিলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে সাজানোর বিষয়ে ঢাকা আগ্রহী এবং উপযুক্ত সময়ে দ্বিপক্ষীয় সফরকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এদিকে সম্ভাব্য দিল্লি সফরকে ঘিরে দুই দেশের আলোচনায় বাণিজ্য ও পানি ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ ডিসেম্বর মাসে শেষ হওয়ার কথা। ফলে চুক্তির ভবিষ্যৎ, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপড়েনে ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ স্বাভাবিক করার বিষয়গুলো আলোচনায় আসতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে হিন্দু।
তবে এখন পর্যন্ত নভেম্বরে তারেক রহমানের দিল্লি সফরের নির্দিষ্ট তারিখ বা চূড়ান্ত কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। ফলে সফরটি বর্তমানে দুই দেশের কর্মকর্তাদের আলোচনার পর্যায়েই রয়েছে।