চীনের পিকিং ইউনিভার্সিটির ডংফাং স্কলারশিপ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ৫৪ দেশের প্রতিনিধিদের সরাসরি ভোটে অ্যাম্বাসেডর নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল। নির্বাচনে তিনি ১৯ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইকুয়েডরের উপ-রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা লোরেনা পন্সে পেয়েছেন ১৭ ভোট।
উদীয়মান রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে আয়োজিত ডংফাং স্কলারশিপ কর্মসূচিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন ডা. আউয়াল। এবারের কর্মসূচিতে ৫৪টি দেশের ৫৪ জন প্রতিনিধি অংশ নেন। কর্মসূচির নিয়ম অনুযায়ী অংশগ্রহণকারীদের সরাসরি ভোটে একজনকে অ্যাম্বাসেডর নির্বাচিত করা হয়। ভোটে ডা. আউয়াল ১৯ ভোট পেয়ে প্রথম হন। লোরেনা পন্সে ১৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন। জিম্বাবুয়ের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এলবার্ট মাভুঙ্গা পেয়েছেন ৮ ভোট এবং মালদ্বীপের উপমন্ত্রী আহমেদ আরিম পেয়েছেন ৫ ভোট।
পিকিং ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, ১১ সেপ্টেম্বর চীনের সুপ্রিম পিপলস কোর্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট গাও শিয়াওলি ডংফাং স্কলারশিপ কর্মসূচির ৫৪ জন আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণকারীর একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে আইনের শাসন, আন্তর্জাতিক বিচারিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া নিয়ে আলোচনা হয়।
অ্যাম্বাসেডর নির্বাচিত হওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ডা. আউয়াল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, তাঁদের আস্থা রক্ষায় তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ ও তারেক রহমানের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলেও তিনি দাবি করেন। তাঁর এসব বক্তব্য ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে এসেছে।
ডা. আউয়াল বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ডংফাং স্কলারশিপ কর্মসূচিতে তাঁর অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের একজন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাও এই আন্তর্জাতিক কর্মসূচির অংশ নেন।
পিকিং ইউনিভার্সিটি বিশ্বের অন্যতম পরিচিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ২০২৭ সালের কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি ১৩তম অবস্থানে রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডংফাং স্কলারশিপের এবারের কর্মসূচিতে বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক ও সরকারি পর্যায়ের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের পাশাপাশি পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে চীনের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও মতবিনিময় হয়েছে।