- স্বাধীনতা স্তম্ভ প্রকল্পের কাজ কীভাবে শেষ করা যায়, চলছে সে আলোচনা: আহমেদ আযম খান
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক স্থান ঘিরে ভাস্কর্য নির্মাণের পরিবর্তে পানির ফোয়ারা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে—এমন খবর অস্বীকার করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। তিনি বলেছেন, ওই স্থানে ফোয়ারা নির্মাণের বিষয়ে সরকারের কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়নি। বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভ প্রকল্পের কাজ কীভাবে সম্পন্ন করা যায়, তা নিয়েই আলোচনা চলছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠক করেন মন্ত্রী। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ এবং ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থান ঘিরে নির্মাণকাজ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। আত্মসমর্পণের স্থানটিতে ভাস্কর্য নির্মাণের পরিবর্তে পানির ফোয়ারা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে—এমন খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনা দেখা দেয়।
মন্ত্রী বলেন, **স্বাধীনতা স্তম্ভ প্রকল্প কীভাবে সম্পন্ন করা যায়, সেটিই সরকারের আলোচনার বিষয়।** আত্মসমর্পণের স্থান ঘিরে পানির ফোয়ারা নির্মাণের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলেও তিনি জানান।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বাধীনতা স্তম্ভ প্রকল্পটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোকে সংরক্ষণ ও উপস্থাপনের সঙ্গে যুক্ত। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর এই উদ্যানেই পাকিস্তানি বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ড আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। একই স্থান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সঙ্গেও সম্পৃক্ত।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর গণমাধ্যমে ‘সোহরাওয়ার্দীতে পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের ভাস্কর্যের বদলে বসছে পানির ফোয়ারা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে আত্মসমর্পণের স্থান ঘিরে ভাস্কর্যের পরিবর্তে পানির ফোয়ারা নির্মাণের উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হয়।
তবে মন্ত্রী দাবি করেছেন, সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি সঠিকভাবে উপস্থাপিত হয়নি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আত্মসমর্পণের স্থানে ফোয়ারা নির্মাণের কোনো সিদ্ধান্ত সরকারের নেই। বরং দীর্ঘদিন ধরে চলমান স্বাধীনতা স্তম্ভ প্রকল্পের কাজ কীভাবে শেষ করা যায়, বর্তমানে সেই বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
সরকারের পক্ষ থেকে এ বক্তব্যের ফলে আত্মসমর্পণের স্থানটির ভবিষ্যৎ স্থাপত্য বা স্মারক পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্পটি কীভাবে সম্পন্ন হবে, সেখানে কোন ধরনের স্থাপনা বা স্মারক থাকবে এবং ঐতিহাসিক স্থানটির সংরক্ষণ কীভাবে নিশ্চিত করা হবে—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ এখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার সংগ্রামের দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেন। নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ শেষে একই উদ্যানে ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। ফলে একই স্থানে মুক্তিযুদ্ধের সূচনাপর্বের রাজনৈতিক আহ্বান এবং বিজয়ের ঐতিহাসিক পরিণতির স্মৃতি জড়িয়ে আছে।
এই ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় স্বাধীনতা স্তম্ভ প্রকল্পের নকশা ও বাস্তবায়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। সাম্প্রতিক ফোয়ারা নির্মাণের খবর সেই আলোচনাকে আবারও সামনে নিয়ে আসে। তবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, আত্মসমর্পণের স্থানে ফোয়ারা নির্মাণের কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত হয়নি এবং প্রকল্পটি কীভাবে সম্পন্ন করা হবে, সে বিষয়েই আলোচনা চলছে।