মরিয়মের আত্মহত্যা

আপসনামায় কী আছে, কেন মিলল না গাজী নজরুলের জামিন

আজাদ প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১০
 ছবি:
  • তিন শর্তে সমঝোতার দাবি বাদীপক্ষের; মাকসুদার জামিন মঞ্জুর, সংসদ সদস্যের আবেদন নাকচ

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামের জামিনে আপত্তি নেই জানিয়ে আদালতে আপসনামা দিয়েছেন আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলার বাদী ও মরিয়ম খাতুনের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। তবে আপসনামা দাখিলের পরও গাজী নজরুলের জামিন আবেদন নাকচ করেছেন আদালত। তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামের জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য, আত্মহত্যায় প্ররোচনার এই মামলা আইনগতভাবে আপসযোগ্য নয়; তাই বাদী ও আসামিপক্ষের সমঝোতা জামিনের সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করে না। 

গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে আপসনামাটি দাখিল করা হয়। এতে তিনটি শর্তের কথা বলা হয়েছে। প্রথমত, গাজী নজরুল ও মাকসুদা জামিনে মুক্তি পেলে বাদী বা তাঁর পরিবারের কোনো আপত্তি থাকবে না। দ্বিতীয়ত, জামিনের পর দুই পরিবার আগের মতো পারিবারিক ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করবে। তৃতীয়ত, মামলার বিচারিক কার্যক্রম ও তদন্তে উভয় পক্ষ নিরপেক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।

আপসনামায় মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহকে প্রথম পক্ষ এবং আব্দুল হামিদ মোড়লকে দ্বিতীয় পক্ষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আইনজীবীদের বক্তব্য অনুযায়ী, আব্দুল হামিদ আসামিপক্ষের আত্মীয়। গত ২৯ সেপ্টেম্বর নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে দলিলটি সম্পাদন করা হয়। 

আপসনামায় যা বলা হয়েছে

দলিলে বলা হয়েছে, গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর তিনি নজরুলের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক বজায় রেখে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে সংসার করছিলেন। আপসনামায় দুই পরিবারের মধ্যে আগে থেকেই ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় স্বামীর বাসায় মরিয়মের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। মেয়ের জামাইয়ের বাসায় এমন ঘটনা ঘটায় তাৎক্ষণিকভাবে সন্দেহের ভিত্তিতে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন তাঁর বাবা। তবে পরে বিভিন্নভাবে খোঁজখবর নিয়ে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন বলে আপসনামায় দাবি করা হয়েছে, গাজী নজরুল বা মাকসুদা ইসলামের কোনো প্ররোচনা কিংবা কার্যকলাপের কারণে মরিয়ম আত্মহত্যা করেননি।

দলিলে আরও বলা হয়েছে, দুই পরিবারের মধ্যে পারিবারিক সম্পর্ক বজায় রাখা এবং চলমান বিচারিক প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করার উদ্দেশ্যে সমঝোতা করা হয়েছে। আপসনামায় সমঝোতাটি স্বেচ্ছায় সম্পন্ন হওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে। তবে দলিলে দেওয়া বক্তব্য মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্য বা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিকল্প নয়। 

রাষ্ট্রপক্ষের আপত্তি

আপসনামার বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, মামলা দায়েরের পর এ ধরনের সমঝোতার মাধ্যমে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগের নিষ্পত্তি করার আইনগত সুযোগ নেই। তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দেবেন। আসামিদের জামিন দেওয়া হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার আদালতের।

রাষ্ট্রপক্ষ আরও প্রশ্ন তুলেছে, বাদী ও আসামিপক্ষের মধ্যে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকায় কোনো চাপের মুখে আপসনামাটি তৈরি হয়েছে কি না। কেন এবং কীভাবে সমঝোতা হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। তবে আপসনামাটি চাপ প্রয়োগ করে তৈরি করা হয়েছে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

আদালত শেষ পর্যন্ত মাকসুদা ইসলামের জামিন মঞ্জুর করেন। রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর বয়স ও অসুস্থতার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে গাজী নজরুলের জামিন আবেদন নাকচ করা হয়। আপসনামা আদালত গ্রহণ করেছে কি না, তা নিয়েও পক্ষগুলোর বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ বলেছে, মামলাটি আপসযোগ্য না হওয়ায় দলিলটি গ্রহণ করে মামলা নিষ্পত্তির সুযোগ নেই; আসামিপক্ষের আইনজীবী অবশ্য সমঝোতার কিছু অংশ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন।

যে মামলায় কারাগারে গাজী নজরুল

গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জাতীয় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে ১৯ বছর বয়সী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন তাঁর বাবা মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় করা এ মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ও নজরুলের সাবেক গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, বিয়ের পর মরিয়ম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় তিনি নির্যাতনের বিষয়টি জানিয়েছিলেন বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। ঘটনার দিন গাজী নজরুল মরিয়মের বাবাকে ফোন করে দ্রুত বাসায় আসতে বলেন। পরে সেখানে গিয়ে তিনি মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান বলে এজাহারে বলা হয়েছে। কক্ষে সুইসাইড নোট পাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ।

মামলার পর গাজী নজরুল ও মাকসুদাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গাজী নজরুলকে দুই দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রিমান্ড শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার অপর আসামি ওবায়দুর রহমানকেও গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

এর আগে গত জুলাইয়ে গাজী নজরুল ও মরিয়মের ব্যক্তিগত মুহূর্তের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিতর্ক তৈরি হয়। পরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কার করে। ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় সন্দেহ ও মারধর করে শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ওবায়দুর রহমান পল্লবী থানায় পৃথক একটি মামলা করেন। ওই মামলায় গাজী নজরুল হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের আগাম জামিন পেয়েছিলেন। 

মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এখন তদন্তের ফল এবং আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাদীপক্ষের আপসনামায় আসামিদের বিরুদ্ধে প্ররোচনার অভিযোগ থেকে সরে আসার বক্তব্য থাকলেও, রাষ্ট্রপক্ষের আপত্তি ও আদালতের আদেশের কারণে মামলার আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে, তার ওপরই অভিযোগের পরবর্তী অগ্রগতি নির্ভর করবে।

১

সুবর্ণচরে তিন ফসলি জমিতে ইটভাটা, লাইসেন্স-ছাড়পত্রও নেই: গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

২

কুড়িগ্রামের রাজমাল্লীর হাটে ৮২ লাখ টাকার হাট উন্নয়ন, সুফল মিলছে না ক্রেতা-বিক্রেতার

৩

চীনের কাছে হেরে অলিম্পিকের স্বপ্ন শেষ বাংলাদেশের

৪

বাংলামোটরে মাথায় আঘাত, ফাঁকা গুলি, বহিষ্কৃত যুবদল নেতা সাইমনসহ আটক ৪

৫

রোমাঞ্চকর জয়ে পর্তুগালের তিনে তিন, ক্লপের জার্মানির প্রথম জয়

৬

এক নজরে দেখে নিন ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পূর্ণাঙ্গ সূচি

৭

ছাত্রীদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ: বেরোবিতে ৩ শিক্ষককে পদাবনতি

৮

আনসারের তিন আইন একীভূত করে হচ্ছে ‘আনসার বাহিনী আইন’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

৯

৯-২ গোলে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ, ফাইনালে ইন্দোনেশিয়া

১০

মুন্সীগঞ্জে শ্রেণিকক্ষে ঢুকে ছাত্রকে আছাড় দিলেন সহপাঠীর অভিভাবক

১১

নিজের বাড়িতে হামলার মামলা করে উল্টো সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় কারাগারে বৃদ্ধা

১২

বগুড়ায় হাতকড়া পরেই মায়ের জানাজায় আওয়ামী লীগ নেতা

১৩

আম্মারকে ‘বহিষ্কারের’ তথ্য এক বছর পর কেন প্রকাশ্যে আনল শিবির

১৪

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ১২ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প, কাজ হবে ১৬ হাজার ২৬৫ স্থাপনায়

১৫

‘আম্মার উড়ে আসা নেতা’, কার ওপর গজব পড়ার কথা বললেন উমামা

১

ট্রেনের ১৭ হাজার টিকিটের জন্য ২ কোটি ৭৬ লাখ বার চেষ্টা

২

দিল্লিতে ভারী বৃষ্টিতে বিমান চলাচল বিঘ্ন, ব্যাপক দুর্ভোগ

৩

মিরাজ-সৌম্যকে দলে টানতে চায় রংপুর

৪

আওয়ামী লীগ নেত্রী গ্রেফতার

৫

গাজায় একদিনে নিহত আরও ৭৯ ফিলিস্তিনি

৬

বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ

৭

মাদককারবারিদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ওসির

৮

২ বহিরাগতের নিয়ন্ত্রণে সরকারি অফিস!

৯

নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ ব্যতীত সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতির সুযোগ নেই: আলী রীয়াজ

১০

বনানীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২

১১

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে স্থগিত যেসব চাকরির পরীক্ষা

১২

নন-ক্যাডারে ৪১৩৬ জনকে নিয়োগের সুপারিশ

১৩

৬৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ’র গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

১৪

মাদ্রাসায় গ্রামীণ ফোন করপোরেট নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক

১৫

নারায়ণগঞ্জের আলোর বাতিঘর ‘সুধীজন পাঠাগার’

সম্পর্কিত