সবুজ পাহাড়ের বুক চিরে ভেসে আসা মেঘের ভেলা, আঁকাবাঁকা পাহাড়ি সড়ক আর দিগন্তজোড়া প্রকৃতি—এসবের টানেই প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা ছুটে আসেন রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক উপত্যকায়। ‘মেঘের রাজ্য’ হিসেবে পরিচিত এই পর্যটনকেন্দ্রের জনপ্রিয়তা বাড়লেও সম্ভাবনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোচ্ছে না নিরাপত্তা, যোগাযোগ ও পর্যটকসেবার অবকাঠামো। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পাহাড়ি আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর বিরোধ, সশস্ত্র সংঘাতের অভিযোগ এবং সড়ক অবরোধ। ফলে একদিকে পর্যটকদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে পর্যটননির্ভর স্থানীয় মানুষের জীবিকা পড়ছে ঝুঁকিতে।
সাম্প্রতিক সময়ে সাজেক ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা, গোলাগুলির অভিযোগ এবং সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরির ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, খাগড়াছড়ি, বাঘাইছড়ি ও লংগদু থেকে সাজেকমুখী সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে এবং টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করা হয়েছে। এতে পর্যটকবাহী যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। কলাবুনিয়া, ছাইয়্যাতলী ও মাচালংসহ দুর্গম এলাকায় সশস্ত্র তৎপরতা ও গোলাগুলির অভিযোগও সামনে এসেছে।
সাজেকের বর্তমান অস্থিরতার কেন্দ্রে রয়েছে পাহাড়ি আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর বিরোধ, এলাকা নিয়ন্ত্রণ এবং চাঁদা আদায় নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির পরও পাহাড়ি রাজনীতিতে বিভক্তি ও আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর পারস্পরিক দ্বন্দ্ব পুরোপুরি কাটেনি। সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) এবং প্রসিত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) দীর্ঘদিন ধরে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান থেকে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এ বিরোধের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদা আদায়ের অভিযোগও যুক্ত হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, সংঘাতের খবর ছড়িয়ে পড়লেই পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়; অনেকেই ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল বা স্থগিত করেন।
পাল্টাপাল্টি অভিযোগে অনিশ্চয়তা
ইউপিডিএফের কেন্দ্রীয় নেতা মিল্টন চাকমা প্রাণেশের অভিযোগ, কয়েক মাস ধরে জেএসএসের সন্তু লারমা-সমর্থিত সশস্ত্র সদস্যরা মাচালং ও সাজেকের বিভিন্ন গ্রামে অবস্থান নিয়ে জুমচাষিদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছেন। তাঁর দাবি, ঘরবাড়ি ভাঙচুর, প্রাণনাশের হুমকি এবং গুলিতে এক শিশুর আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন ও গণঅধিকার রক্ষা কমিটি আন্দোলনে নেমেছে বলে তিনি দাবি করেন। সশস্ত্র সদস্যদের প্রত্যাহার এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, জেএসএসের রাঙামাটি জেলা কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সজীব চাকমা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, সাজেকে জেএসএসের সশস্ত্র তৎপরতা বা গোলাগুলিতে জড়িত থাকার অভিযোগ ভিত্তিহীন। ইউপিডিএফ নিজেদের আধিপত্য ও চাঁদা আদায়ের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য স্থানীয় মানুষকে জিম্মি করে সড়ক অবরোধ করাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর ভাষ্য, এতে সাধারণ পর্যটক ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
দুই পক্ষের এমন পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় পড়েছেন সাধারণ বাসিন্দারা। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সংঘাতের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা এবং সড়কে স্বাভাবিক চলাচল ফিরিয়ে আনা এখন জরুরি।
পর্যটননির্ভর অর্থনীতিতে ধাক্কা
সাজেকের অর্থনীতির বড় অংশই পর্যটনকে ঘিরে। রিসোর্ট, কটেজ, রেস্তোরাঁ, চাঁদের গাড়ি, ক্ষুদ্র দোকান এবং পর্যটকদের জন্য বিভিন্ন সেবা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে। সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, উপত্যকায় ছোট-বড় প্রায় ১২০টি রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে তিন হাজারের বেশি পর্যটকের থাকার ব্যবস্থা আছে।
চলমান অস্থিরতায় গত ১০ থেকে ১২ দিনে অধিকাংশ বুকিং বাতিল হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি। তাঁদের হিসাবে, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, জিপগাড়ি ও অন্যান্য পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসা মিলিয়ে প্রতিদিন কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হচ্ছে। এ হিসাবের স্বাধীন যাচাই না থাকলেও পর্যটক চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ব্যবসা ও কর্মসংস্থানে চাপ তৈরি হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট।
ক্ষতির প্রভাব মালিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। হোটেলকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, চালক, খাবারের দোকানের কর্মচারী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আয়ও পর্যটকের উপস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। পর্যটন মৌসুমে দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকলে এসব পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে অবরোধের কারণে স্থানীয় কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া ব্যাহত হচ্ছে। জুমচাষিদের উৎপাদিত আদা, হলুদ, কলা ও পেঁপে সময়মতো বাজারে পৌঁছাতে না পারলে আয় কমে যায় এবং পণ্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। চাল, ডালসহ প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হলে দুর্গম এলাকার মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে একপর্যায়ে ১২ ঘণ্টার জন্য অবরোধ শিথিল করা হয়েছিল। পরে আবার কঠোর অবরোধের ঘোষণায় পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
নিরাপত্তা ও যোগাযোগে ঘাটতি
সাজেকে পর্যটকদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ে নিরাপত্তা স্কটের ব্যবস্থা রয়েছে বলে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ব্যবস্থার সক্ষমতাও বাড়ানো প্রয়োজন। সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জন বলেন, পর্যটকেরা সাধারণত সকাল ১০টা ও বিকেল ৩টার নির্ধারিত সময়ে সাজেকে প্রবেশ ও বের হওয়ার সুযোগ পান। এতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। নিরাপত্তা স্কটের সংখ্যা বাড়ানো গেলে চলাচলের এই চাপ কমানো সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
তবে নিরাপত্তা জোরদারের প্রশ্নটি শুধু স্কট বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আঞ্চলিক সংঘাতের কারণ অনুসন্ধান, অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধ, সাধারণ মানুষের অভিযোগ তদন্ত এবং পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পর্যটনকেন্দ্রের নিরাপত্তা এমনভাবে পরিচালনা করা প্রয়োজন, যাতে একদিকে ঝুঁকি কমে, অন্যদিকে স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও বাধাগ্রস্ত না হয়।
সাজেকের আরেকটি বড় সমস্যা পাহাড়ি সড়কের ঝুঁকি। আঁকাবাঁকা ও সরু পথে চাঁদের গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে। চালকের অসতর্কতা, অতিরিক্ত গতি এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায় বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন। পাহাড়ি সড়কে অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে যাওয়া পর্যটকদের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এ কারণে পর্যটক পরিবহনে চালকদের প্রশিক্ষণ, যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা এবং গতিসীমা কার্যকর করার দাবি রয়েছে।
বর্ষা মৌসুমে মাচালং সড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে ডুবে যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এতে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা আটকা পড়তে পারেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সমীক্ষার ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ অংশ উঁচু করা, কার্যকর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং নিয়মিত সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি। শুধু পর্যটনের সুবিধা নয়, এসব উন্নয়ন স্থানীয় মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের জন্যও প্রয়োজন।
পানি, পরিবেশ ও পর্যটকসেবার সংকট
পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেও বিশুদ্ধ পানি, পার্কিং, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জরুরি চিকিৎসা ও উদ্ধারসেবার মতো মৌলিক সুবিধা পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কেটে হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ নির্মাণের প্রবণতা পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। পরিকল্পনাহীন স্থাপনা বৃদ্ধি পেলে পাহাড়ের ভূমির স্থিতিশীলতা, পানি নিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
সাজেকের আল মদিনা রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মো. জাফর আলম বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তার পাশাপাশি নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখা এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার করা জরুরি। এরপর বিনোদনকেন্দ্র ও অন্যান্য পর্যটকসেবা বাড়ানো গেলে সাজেক দেশের বড় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে আরও বিকশিত হতে পারে।
রাহুল চাকমা জন বলেন, সাজেকে পানির সংকট প্রকট। ব্যবহার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষকে পর্যটন ব্যবসায় যুক্ত করতে কমিউনিটি ট্যুরিজমের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এ খাতে স্থানীয়দের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো গেলে পর্যটনের সুফল আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাবে বলে তিনি মনে করেন। বিদেশি পর্যটকদের জন্য ভ্রমণপ্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। রাহুল চাকমা আরও বলেন, ২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তাঁদের বেশ কয়েকটি কটেজ পুড়ে গিয়ে অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছিল। যেকোনো সংকটে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বাঘাইছড়ি প্রেস ক্লাবের সভাপতি আব্দুল মাবুদ বলেন, আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর আধিপত্যের লড়াই ও সংঘাত সাজেকের পর্যটন বিকাশে বড় বাধা। বছরের বিভিন্ন সময়ে সংঘাতের খবর প্রকাশিত হলে পর্যটকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। তাঁর মতে, সংঘাত বন্ধের উদ্যোগের পাশাপাশি নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা গেলে পর্যটকদের আস্থা বাড়বে।
স্থায়ী সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ
নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল নজরুল ইসলামের মতে, পাহাড়ের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত কেবল সাময়িক অভিযান বা নিরাপত্তা কড়াকড়ির মাধ্যমে সমাধান করা কঠিন। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, রাজনৈতিক পক্ষগুলোর মধ্যে কার্যকর সংলাপ এবং ভূমি বিরোধসহ শান্তিচুক্তির অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে অগ্রগতি জরুরি। এসব বিষয়ে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য থাকলেও সংঘাতের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে আলোচনার পথ কার্যকর রাখা প্রয়োজন।
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমা আশরাফি জানিয়েছেন, মানুষের জানমাল ও পর্যটকদের নিরাপত্তা প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার। আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর বিরোধ এবং গোলাগুলির আশঙ্কায় সড়কে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হওয়ায় সাজেকে পর্যটন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কারবারি ও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সাজেকের পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে নিরাপত্তা, সড়ক, পানি ও পরিবেশ—সব ক্ষেত্রেই সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন। জরুরি চিকিৎসা ও উদ্ধারসেবা, পর্যটক তথ্যকেন্দ্র, পর্যাপ্ত পার্কিং, বর্জ্য ফেলার নির্দিষ্ট স্থান এবং নির্ভরযোগ্য মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সুবিধা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি পর্যটন ব্যবসায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং পর্যটনের সুফল স্থানীয় অর্থনীতিতে আরও বিস্তৃত হবে।
সাজেকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের আকর্ষণ করে, কিন্তু সেই আকর্ষণ দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে পাহাড়ের মানুষের নিরাপত্তা ও আস্থা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর সংঘাতের দায় নিরপেক্ষভাবে নির্ধারণ, সহিংসতার অভিযোগ তদন্ত, সড়ক অবরোধের অবসান এবং রাজনৈতিক সংলাপের পাশাপাশি পর্যটন অবকাঠামোর পরিকল্পিত উন্নয়ন করতে হবে। অন্যথায় পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেও নিরাপত্তা ও সেবার ঘাটতি সাজেকের সম্ভাবনাকে বারবার বাধাগ্রস্ত করবে।