দেশজুড়ে প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের গড়ে তুলতে নতুন উদ্যোগ
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের খুঁজে বের করে তাঁদের দক্ষ খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তুলতে নতুন প্রকল্প হাতে নিচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল।
সোমবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রবি আয়োজিত প্রতিভা অন্বেষণ কার্যক্রমের সমাপনী অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি। দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও শহর থেকে ভবিষ্যতের নাহিদ রানা, মারুফ মৃধা ও তাসকিন আহমেদদের খুঁজে বের করার এ উদ্যোগে যুক্ত সবাইকে ধন্যবাদ জানান বিসিবি সভাপতি। বিশেষ করে প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের বাছাই ও পরিচর্যায় কোচদের পরিশ্রমের প্রশংসা করেন তিনি।
প্রতিভা অন্বেষণ কার্যক্রমে নির্বাচিত ২০ থেকে ২১ জনের বাইরে যাঁরা এবার সুযোগ পাননি, তাঁদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তামিম। তাঁর মতে, একটি আয়োজনের মাধ্যমে নির্বাচিত হতে না পারলেও ভালো ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন থামিয়ে দেওয়া উচিত নয়।
তামিম বলেন, ‘আজকে হয়তো আপনারা এই ২০-২১ জনের মধ্যে একজন হতে পারেননি। কিন্তু কখনোই স্বপ্ন দেখা বন্ধ করবেন না। আগামী এক-দুই বছর পর আবারও এই আয়োজন হতে পারে, তখন আপনারা নির্বাচিত হতে পারেন। আবার এই ট্যালেন্ট হান্টের বাইরেও ভালো ক্রিকেটার হওয়ার অনেক সুযোগ রয়েছে।’
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের বিকাশে বিসিবির নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত নই, তবে এমন একটি ঘোষণা দেওয়ার খুব কাছাকাছি আছি, যেটি দেশের অনেক ক্রিকেটারের জন্য কাজে আসবে। বিসিবি ও আমি একটি প্রকল্প নিয়ে কাজ করছি। আশা করছি, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সেটি ঘোষণা করতে পারব। এর মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় থাকা ক্রিকেটারদের আরও ভালোভাবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’
তবে প্রকল্পটির নাম, অর্থায়ন, বাস্তবায়ন কাঠামো কিংবা এর আওতায় কতজন ক্রিকেটার সুযোগ পাবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি বিসিবি সভাপতি।
বর্তমান প্রতিভা অন্বেষণ কার্যক্রমে নির্বাচিত ক্রিকেটারদের পরিচর্যার দায়িত্ব বিসিবি নেবে। তাঁদের হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিটের অধীনে রেখে প্রশিক্ষণ, চিকিৎসা ও ম্যাচ খেলার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তামিম। তাঁর লক্ষ্য, প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের শুধু খুঁজে বের করাই নয়, নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে তাঁদের প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুত করা।
তামিম বলেন, ‘তাদের সঠিকভাবে গড়ে তোলার জন্য সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের বিশেষজ্ঞ, মেডিকেল দল কিংবা অন্য যেকোনো ব্যবস্থার মাধ্যমে নিশ্চিত করব, তারা যেন যথাযথ পরিচর্যা পায়। আশা করি, পারফরম্যান্স দেখানোর জন্য তাদের একটি প্ল্যাটফর্মও দিতে পারব।’
তরুণ ক্রিকেটারদের দ্রুত প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, প্রতিভা শনাক্ত করার পর যথাযথ প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে খেলোয়াড়দের উন্নতি ত্বরান্বিত হবে।
এ প্রসঙ্গে বিসিবি ট্রফির উদাহরণ টেনে তামিম বলেন, ‘একমি টিমকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, তারা এখান থেকে একজনকে বেছে নিয়েছে। বিসিবি ট্রফি শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, এটি উন্নয়নেরও অংশ। অন্য দলগুলোকেও উৎসাহিত করব, এমন প্রতিভাদের দ্রুত নিজেদের অধীনে নিয়ে তাদের গড়ে তুলতে এবং খেলার সুযোগ দিতে। তাহলে তারা আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে।’
বিসিবি সভাপতির বক্তব্যে প্রতিভা অন্বেষণ, প্রশিক্ষণ, চিকিৎসা ও ম্যাচ খেলার সুযোগ—এই চারটি বিষয়কে তরুণ ক্রিকেটারদের উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রস্তাবিত নতুন প্রকল্পের বিস্তারিত ঘোষণা এলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের জন্য কী ধরনের সুযোগ তৈরি হবে, তা স্পষ্ট হবে।