দীর্ঘ সাড়ে তিন মাসেরও বেশি সময়ের নিষেধাজ্ঞা শেষে কাপ্তাই হ্রদে আবারও পুরোদমে শুরু হয়েছে মাছ আহরণ ও বিপণন। মাছ ধরা শুরুর প্রথম সপ্তাহেই হ্রদ থেকে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ২২৪ মেট্রিক টন মাছ আহরণ করা হয়েছে। এ সময় সরকারিভাবে প্রায় ৫০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। এতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে স্থানীয় জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের মাঝে।
বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএফডিসি) আওতাধীন কাপ্তাই মৎস্য আহরণ উপকেন্দ্র সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
কাপ্তাই মৎস্য আহরণ উপকেন্দ্রের কেন্দ্র প্রধান মো. জসীম উদ্দিন জানান, কাপ্তাই হ্রদে মাছের প্রজনন, বংশবৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে দীর্ঘ সময় মাছ আহরণ ও বিপণনের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। নিষেধাজ্ঞা শেষে গত ১০ আগস্ট মধ্যরাত থেকে হ্রদে আনুষ্ঠানিকভাবে মাছ আহরণ ও বিপণন শুরু হয়। শুরু থেকেই জেলেদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে।
তিনি বলেন, ১১ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত এক সপ্তাহে কাপ্তাই মৎস্য উপকেন্দ্রের মাধ্যমে মোট ২২৪ মেট্রিক টন মাছ আহরণ করা হয়েছে। এর বিপরীতে সরকারের প্রায় ৫০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। দিন যত যাচ্ছে মাছ আহরণের পরিমাণও বাড়ছে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় জেলেরা বলছেন, এবারের মৌসুমের শুরুতেই হ্রদে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের উপস্থিতি বেশ ভালো। বিশেষ করে আইড় মাছের পরিমাণ ও আকার আগের তুলনায় বেশি বলে দাবি তাদের। পাশাপাশি কেচকি ও চাপিলাসহ বিভিন্ন ছোট মাছও পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে।
মাছ শিকারে নিয়োজিত স্থানীয় জেলে ওমর আলী, সুবল দাশ ও মো. আরব আলী বলেন, মাছ আহরণ শুরুর প্রথম দিকে হ্রদে পানির উচ্চতা কিছুটা বেশি থাকায় জেলেদের মাছ ধরতে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয়েছে। তবে বর্তমানে পানি কমে আসায় মাছ আহরণ তুলনামূলক সহজ হয়েছে। হ্রদে মাছের পরিমাণও ভালো থাকায় তারা আশাবাদী, এ মৌসুমে জেলেরা কাঙ্ক্ষিত আয় করতে পারবেন।
কাপ্তাই মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বেলাল হোসেন বলেন, কাপ্তাই হ্রদের মাছের স্বাদ ও গুণগত মানের সুনাম দেশের বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে। হ্রদের মাছ কিনতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা কাপ্তাইয়ে আসেন। মাছ আহরণ স্বাভাবিকভাবে চললে জেলে থেকে শুরু করে মৎস্য ব্যবসায়ী—সংশ্লিষ্ট সবাই উপকৃত হবেন। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কাপ্তাই হ্রদের মৎস্যসম্পদ রক্ষা, কার্পজাতীয় মাছের সুষম বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করা এবং হ্রদের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে গত ২৫ এপ্রিল থেকে মাছ আহরণ, বিপণন ও পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। পরবর্তীতে হ্রদের পানি পরিস্থিতি বিবেচনায় নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও ১০ দিন বাড়িয়ে ১০ আগস্ট ২০২৬ মধ্যরাত পর্যন্ত কার্যকর রাখা হয়।
নিষেধাজ্ঞার দীর্ঘ সময় শেষে মাছ আহরণ শুরু হওয়ায় একদিকে যেমন জেলেদের কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে, অন্যদিকে বাজারে বেড়েছে মৎস্য ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততা। প্রথম সপ্তাহের ২২৪ মেট্রিক টন মাছ আহরণ ও ৫০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায়ের তথ্যকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের প্রত্যাশা, আবহাওয়া ও হ্রদের পানি পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে সামনে মাছ আহরণ আরও বাড়বে এবং কাপ্তাই হ্রদের মৎস্যসম্পদকে ঘিরে স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।