দক্ষিণি ভারতের তারকা অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ থালাপতি বিজয়ের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, স্ত্রী সংগীতা স্বর্ণালিঙ্গমের সঙ্গে প্রায় ২৭ বছরের দাম্পত্য জীবনে ইতি টানতে চলেছেন তিনি। অভিযোগ উঠেছে, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন অভিনেতা বিজয়। আর সেই সম্পর্ক নাকি দক্ষিণি অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণনের সঙ্গে। এই গুঞ্জনের মাঝেই সম্প্রতি এক বিয়ের অনুষ্ঠানে একসঙ্গে দেখা গেছে বিজয় ও তৃষাকে, যা তাদের সম্পর্ককে ঘিরে নতুন গুঞ্জন উসকে দিয়েছে। চেন্নাইয়ের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে একসঙ্গে উপস্থিত হয়েছিলেন এই দুই তারকা। সেই অনুষ্ঠানের ছবি ও ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যা ঘিরে নেটিজেনদের মধ্যে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। এক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, গাড়ি থেকে হাতে ফুলের তোড়া নিয়ে নামছেন বিজয়, আর তার পিছনেই হেঁটে আসছেন তৃষা। এই দৃশ্য ঘিরেই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—তবে কি এভাবেই তাদের সম্পর্কের গুঞ্জনে সিলমোহর পড়ল? আবার অনেকের মতে, যদি সত্যিই স্ত্রী সংগীতা স্বর্ণালিঙ্গমের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পথে এগিয়ে থাকেন বিজয়, তবে কি এই উপস্থিতিই সেই বার্তা দিচ্ছে? এদিকে বিজয়-তৃষার প্রকাশ্য উপস্থিতির কয়েক ঘণ্টা আগে বিজয়ের দেহরক্ষী অরুণ সুরেশের রহস্যময় ইনস্টাগ্রাম বার্তা, গুজবকে আরও জোরালো করেছে। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘সব গুজবকে পেছনে ফেলার সময়।’ যদিও তিনি ঠিক কোন প্রসঙ্গে এই মন্তব্য করেছিলেন, তা স্পষ্ট হয়নি। কিছু সময়ের মধ্যেই তিনি সেই পোস্ট মুছেও দেন। বিজয় ও তৃষার জুটি বহুদিন ধরেই দর্শকদের কাছে জনপ্রিয়। ২০০৪ সালে ‘গিল্লি’ ছবিতে প্রথম তাদের রসায়ন দর্শকের মন জয় করে। এরপর ‘থিরুপাচি’, ‘আথি’ এবং ‘কুরুভি’-র মতো একাধিক ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছেন তারা। তবে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জনও নতুন নয়। শোনা যায়, ২০০৮ সালের পর একসঙ্গে ছবি করা বন্ধ করে দেন তাঁরা। কারণ, তাঁদের ঘনিষ্ঠতার জল্পনা নাকি প্রভাব ফেলেছিল বিজয়ের সংসারে। সেই সময় অভিনেতার পরিবারের তরফে তৃষার সঙ্গে কাজ না করার শর্তও দেয়া হয়েছিল বলে খবর বেরোয়। যদিও সেই সময় দুই তারকাই দাবি করেছিলেন, সবটাই গুজব—তারা কেবলই ভাল বন্ধু। দীর্ঘ ১৪ বছর পর আবার বড় পর্দায় একসঙ্গে দেখা যায় তাদের। ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘লিয়ো’ ছবিতে স্বামী-স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেন বিজয় ও তৃষা। আর সেই থেকেই আবার নতুন করে শুরু হয়েছে তাদের সম্পর্ক নিয়ে নানা জল্পনা। এর আগে, সংগীতার করা একটি বিবাহবিচ্ছেদের আবেদনপত্রের কপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে বলে দাবির কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সেখানে তিনি অভিযোগ করেছেন, ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে বিজয়ের এক অভিনেত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। সংগীতার দাবি, বিজয় সম্পর্ক শেষ করার আশ্বাস দিলেও তা নাকি বজায় রাখেননি। ফলে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছেন। এমনকি ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিয়েও তিনি সমস্যার মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। আবেদনপত্রে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট অভিনেত্রীর সঙ্গে বিজয়ের প্রকাশ্যে উপস্থিতি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ—এসব কারণে সংগীতা ও তাদের সন্তানেরা অপমানিত বোধ করেছেন। উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের ২৫ আগস্ট বিজয় ও সংগীতার বিয়ে হয়। সংগীতা শ্রীলঙ্কান তামিল এবং লন্ডনভিত্তিক এক উদ্যোক্তার কন্যা। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময়ের সংসারে তাদের দুই সন্তান রয়েছে। ছেলে জেসন সঞ্জয় শিগগিরই তামিল সিনেমায় পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছেন।