ঈদের কেনাকাটায় ক্লান্তি নয়, আনন্দই থাকুক ঈদ সামনে রেখে ঢাকার গাউছিয়া মার্কেটে দেখা যায় ক্রেতাদের ভিড়। রমজানের শেষ দিকে এসে ঈদের কেনাকাটা যেন একটা উৎসবের মতো। নতুন জামা-কাপড়, জুতা, প্রসাধনী, উপহার— সব মিলিয়ে পরিবার-বন্ধুবান্ধবের জন্য কেনাকাটার ধুম লেগে যায়। ঢাকার নিউমার্কেট, বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক কিংবা স্থানীয় বাজার— সব জায়গায় ঢল নামে। তবে রোজা রেখে দীর্ঘক্ষণ হাঁটাহাঁটি, গরমে দাঁড়িয়ে থাকা, ভিড় সামলানো— এসব মিলিয়ে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। পায়ে ব্যথা, কোমরে টান, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা— এমনকি পানিশূন্যতার লক্ষণও দেখা দেয়। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন বলেন, “রোজায় শরীর অন্য ছন্দে চলে। উচ্ছ্বাসের মাঝেও শারীরিক সীমাবদ্ধতা মনে রাখতে হবে। সামান্য পরিকল্পনা আর সচেতনতায় ক্লান্তি অনেকটাই কমানো যায়।” পরিকল্পনা করুন আগে থেকে, অযথা ঘুরতে হবে না ঈদের কেনাকাটায় সবচেয়ে বড় ভুল হয় অপরিকল্পিত ঘোরাঘুরি। এক দোকান থেকে আরেক দোকান, এক মার্কেট থেকে আরেকটিতে— এতে সময় আর শক্তি দুটোই নষ্ট হয়। ডা. নয়নের পরামর্শ, “বাড়িতে বসে একটা তালিকা তৈরি করুন। কার জন্য কী কিনবেন, কোন দোকানে কী পাওয়া যায়। এতে নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে দ্রুত কাজ সারা যায়।” অপ্রয়োজনীয় ঘোরাঘুরি কমে, শরীরের ওপর চাপও কম পড়ে। অনেকে এখন অনলাইনেও কেনাকাটা করেন—সম্ভব হলে সেটাও বেছে নিন। হালকা পোশাক আর আরামদায়ক জুতা: গরমে স্বস্তির চাবিকাঠি মার্চের শেষ দিকে ঢাকায় তাপমাত্রা ৩০ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে থাকে, রোদ আর আর্দ্রতা মিলিয়ে গরম লাগে প্রচণ্ড। রোজা রেখে এই গরমে ভারী পোশাক পরে বের হলে ঘাম আর ক্লান্তি দ্বিগুণ হয়। ডা. নয়ন বলেন, “হালকা, পাতলা, সুতির পোশাক পরুন— যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে। আরামদায়ক, নরম সোলের জুতো বেছে নিন। শক্ত জুতো পায়ে ব্যথা তৈরি করে।” সঙ্গে রাখুন ওয়েট টিস্যু— ঘাম মুছতে আরাম পাওয়া যায়। ছোট পোর্টেবল ইলেকট্রিক ফ্যানও সাহায্য করে গরম কমাতে। সময় বেছে নিন বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে দুপুরের তীব্র রোদে বের হলে শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুপুর ১২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত গরম সবচেয়ে বেশি। তাই সম্ভব হলে ইফতারের পর সন্ধ্যা-রাতে কেনাকাটা করা যেতে পারে। তখন তাপমাত্রা যেমন কমে তেমনি ভিড়ও কিছুটা কম থাকে। দুপুরে যেতেই হলে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শপিংমল বেছে নেওয়া যায়। এতে গরম আর রোদের হাত থেকে বাঁচা যায়। পানি আর পুষ্টি: ক্লান্তির বড় শত্রু রোজায় দিনভর পানি না গ্রহণ করাতে শরীরে পানির ঘাটতি থাকে। ইফতারের পর বের হলে ভিড় আর হাঁটাহাঁটিতে ঘাম হয় প্রচুর। ফলে পানিশূন্যতা থেকে দেখা দেয় মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, চোখ ঝাপসা হওয়া। ডা. নয়নের পরামর্শ, “সেহরি ও ইফতারে পর্যাপ্ত পানি, লেবুর শরবত, ডাবের পানি, ফলমূল খান। ভাজাপোড়া বা অতিরিক্ত মিষ্টি এড়ান— এগুলো ক্লান্তি বাড়ায়। কেনাকাটায় বের হলে সঙ্গে পানির বোতল রাখুন। ইফতারের পর মার্কেটে গিয়ে ক্লান্ত লাগলে দ্রুত পানি বা শরবত খান।” শরীরের সংকেত অবহেলা করবেন না কেনাকাটার মাঝে যদি অতিরিক্ত ক্লান্তি, মাথাব্যথা, পেট খারাপ বা মাথা ঘোরা শুরু হয়, তাহলে থামুন। ছায়ায় বসুন, বিশ্রাম নিন। প্রয়োজনে বাসায় ফিরে যান। ডা. নয়ন বলেন, “এগুলো পানিশূন্যতার লক্ষণ। রোজায় এমন হলে অবহেলা করবেন না। ছায়ায় বিশ্রাম নিন, পানি গ্রহণ করুন। লেবু-শরবত বা ডাবের পানি দ্রুত সতেজ করে।” মাঝে মাঝে বিশ্রাম নিন, শক্তি ফিরিয়ে আনুন দীর্ঘক্ষণ একটানা হাঁটলে পা-কোমর ব্যথা করে। মার্কেটের বেঞ্চে বা ক্যাফেতে কিছুক্ষণ বসুন। সঙ্গে হালকা শুকনা খাবার বা ফল রাখতে পারেন— যেন শক্তি না কমে। ইফতারের আগে হালকা পুষ্টিকর খাবার খেয়ে বের হলে দিনভর সতেজ থাকবেন। ঈদের আনন্দ সুস্থতায় পূর্ণ হোক ঈদ আনন্দের একটা অংশই থাকে কেনাকাটা জুড়ে। তবে অসুস্থ হয়ে পড়লে আনন্দ ম্লান হয়ে যায়। পরিকল্পিত তালিকা, হালকা পোশাক, সঠিক সময়, পর্যাপ্ত তরল আর শরীরের খেয়াল রাখলে কেনাকাটা হয়ে উঠবে স্বস্তিদায়ক। ডা. নয়নের কথায়, “সচেতনতাই সবচেয়ে বড় ওষুধ। ছোট ছোট অভ্যাসে ঈদের প্রস্তুতি হয়ে উঠুক আনন্দময়।”