কিসের হাসিনা, তার চেহারা কি দেখা গেছে: কক্সবাজারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এম. জসিমউদ্দিন, কক্সবাজার
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

বিদেশে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছে না সরকার বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের রাজনীতি বাংলাদেশের জনগণ আর গ্রহণ করবে না।

শুক্রবার সকালে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার দেওয়া অডিও বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “কিসের হাসিনা, কোথায় বক্তব্য দিয়েছে? চেহারা দেখা গেছে?”

এরপর তিনি বলেন, “মাঝেমধ্যে তারা আওয়াজ-টাওয়াজ দেয়। চেষ্টা করে বাংলাদেশে কোনো ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করা যায় কি না। কিন্তু এসব বাংলাদেশের মানুষ কখনো গ্রহণ করবে না।”

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “যারা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত, যাদের কোনো অনুশোচনা নেই এবং যারা দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চায়নি, তাদের রাজনীতি বাংলাদেশের মানুষ আর মেনে নেবে না। বিদেশে বসে তারা উসকানিমূলক বক্তব্য দিতে পারে, চিৎকার করতে পারে, কিন্তু সরকার সেসবকে গুরুত্ব দিচ্ছে না।”

সকালে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) কার্যালয় পরিদর্শন এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যোগ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে, যা চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। পরিকল্পনাটি অনুমোদনের পর পর্যটন উন্নয়নের পথে বিদ্যমান নীতিগত ও প্রশাসনিক জটিলতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ও বৈজ্ঞানিক জরিপ ছাড়া কক্সবাজারের বিস্তীর্ণ এলাকা ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া (ইসিএ) ঘোষণা করায় পর্যটন শিল্পের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে মেরিন ড্রাইভের দুই পাশের বড় এলাকা তথ্যভিত্তিক মূল্যায়ন ছাড়াই ইসিএ ঘোষণার কারণে বিশ্বের অন্যতম সম্ভাবনাময় এই পর্যটন এলাকায় কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সম্ভব হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকার এখন তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নের মাধ্যমে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে চায়, যাতে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পর্যটন উন্নয়নের মধ্যে একটি কার্যকর ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হয়। আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্রগুলোর অভিজ্ঞতা অনুসরণ করে সমুদ্রসৈকতে কাঠের ওয়াকওয়ে, পিয়ার, হেলিকপ্টার অবতরণ প্ল্যাটফর্মসহ আধুনিক পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে তিনি জানান।

পরে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রকল্পটির অনুমোদন ও দরপত্র আহ্বানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিনিধি ও মেডিকেল কলেজের শিক্ষকদের অনুরোধে সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা করে প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, “তিনি কথা রেখেছিলেন। অনুমোদন দিলেন, টেন্ডার হলো, নির্মাণকাজ শুরু হলো। আজ হয়তো আমার ভাগ্যেই ছিল এই ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের অনুষ্ঠানে থাকতে পারা।”

মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বর্তমানে কলেজটিতে ছাত্রের তুলনায় ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ, যা তাকে আনন্দিত করেছে। নতুন আবাসিক ভবন নির্মিত হলে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট অনেকটাই দূর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে প্রখ্যাত শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবী সলিমুল্লাহ খানের সান্নিধ্যে থাকার সুযোগ হয়েছিল। তার ভাষায়, “তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে মেধাবী মানুষদের একজন। শিক্ষা ও সমাজ নিয়ে তার তাত্ত্বিক অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, হাসপাতালের নির্মাণকাজ শেষ হলে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ বহুশয্যার হাসপাতাল হিসেবে পরিচালিত হবে। পাশাপাশি মাস্টারপ্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত একাডেমিক ভবনসহ অন্যান্য অবকাঠামোও বর্তমান সরকারের মেয়াদে সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হবে। প্রয়োজন হলে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সংশোধন করে প্রকল্পের সময় ও পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত