বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, সংঘাতের মাধ্যমে কোনো সমাধান আসে না।” খামেনি হত্যার খবর শুনে ‘মর্মাহত’ বাংলাদেশ আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সমালোচনার মুখে এবার নতুন বিবৃতি দিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তাতে জানানো হল, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার ঘটনা জেনে বাংলাদেশ ‘মর্মাহত’। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় খামেনি নিহত হওয়ার এক দিন পর সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই বিবৃতি এল। সেখানে বলা হয়, “আন্তর্জাতিক আইন ও রীতি লঙ্ঘন করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে তাকে হত্যার ঘটনা জেনে সরকার মর্মাহত। ইরানের ভ্রাতৃপ্রতীম জনগণের প্রতি আন্তরিক শোক জানাচ্ছে সরকার।” পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, “বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, সংঘাতের মাধ্যমে কোনো সমাধান আসে না। কেবল সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি আনুগত্যের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হতে পারে।” এর আগে রোববার মধ্যপ্রাচ্যের ‘কয়েকটি দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের’ নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওই বিবৃতিতে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের ঘটনায় সাতটি দেশের নাম উল্লেখ করা হলেও ইরানে হামলা চালিয়ে খামেনিকে হত্যার বিষয়ে কিছু বলা ছিল না, যা নিয়ে সমালোচনা হয়। শনিবার ইরানজুড়ে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি, তার কন্যা, জামাতা ও নাতিও প্রাণ হারিয়েছেন। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট বলেছে, সেখানে নিহতের সংখ্যা সাড়ে পাঁচশ ছাড়িয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েক ডজন নেতা ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়েছেন। ওই হামলার জেরে ইসরায়েলের পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেণণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা করেছে ইরান। বার্তা সংস্থাগুলোর খবর অনুযায়ী, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরাকসহ বিভিন্ন দেশে বিমান ঘাঁটি ও অন্যান্য সামরিক রসদ আছে এমন স্থানগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রোববারের বিবৃতিতে বলা হয়, ওই অঞ্চলের কয়েকটি দেশের ‘সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের’ নিন্দা জানাচ্ছে বাংলাদেশ; যার মধ্যে রয়েছে, বাহরাইন, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। মধ্যপ্রাচ্যের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শনিবার রাতে জরুরি সভা করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ নেতৃত্ব। এরপর রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক হয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিল এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের। রোববার ঢাকার সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত দূতাবাসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। ওই বৈঠক থেকে সংশ্লিষ্ট দেশে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানোর কথা বলেন কর্মকর্তারা। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর রোববার তার উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ ‘অগ্রাধিকার’ দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, “বাংলাদেশ কূটনৈতিক সমাধান ও উত্তেজনা প্রশমনের পক্ষে। আমরা চাই পরিস্থিতির অবনতি না ঘটুক। কূটনৈতিকভাবে সমাধান হোক, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।” বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান জানিয়ে রোববারের বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলে, “ইরানে হামলার পর দেশটিতে থাকা নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। “বাংলাদেশ সাবধান করে দিতে চায়, সংঘাত চালিয়ে গেলে তা কেবল আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও বেসামরিক জনগণের সমৃদ্ধিকে বিপন্নই করবে। সর্বোচ্চ সংযমের চর্চা এবং মতপার্থক্য দূর করতে কূটনীতিতে ফেরার জন্য সংশ্লিষ্ট সবপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে বাংলাদেশ।” এরপর দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের নিন্দা জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, “শিগগির পরিস্থিতি শান্ত হয়ে উঠবে এবং ওই অঞ্চলের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ।”