রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগে ‘শুকরিয়া’ আদায় করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। অন্যদিকে মো. সাহাবুদ্দিনকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেন জামায়াতে আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “স্বৈরাচারের একটি কালো ছায়া সরে গেল, এ জন্য আমরা আল্লাহ তায়ালার কাছে শুকরিয়া আদায় করি। তিনি কি কারণে পদত্যাগ করেছেন, এ বিষয়ে আমাদের আগ্রহ নাই। কারণ আমরা আগে থেকেই বিবেচনায় নিয়েছি তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে থাকার যোগ্য না।” নতুন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে অভিনন্দন জানান তিনি। হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ‘ন্যায়নিষ্ঠ’ হয়ে দায়িত্ব পালন করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হবে। পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে হয়ত এটা বলা যাবে।” মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে। এ প্রসঙ্গে একজন সাংবাদিকের প্রশ্নে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, “যদি সেই ধরনের কোনো বিশ্বাসযোগ্য আলামত পাওয়া যায়, তাহলে কোনো ব্যক্তিই আইনের উর্ধ্বে নন।”
মো. সাহাবুদ্দিন দেশের বাইরে চিকিৎসা নিতে পারেন প্রশ্নে শফিকুর রহমান বলেন, “উনি দেশ ছেড়ে যাওয়ার কথা আমি শুনি নাই। উনি গুরুতর অসুস্থ। তিনি দেশের বাইরে যেতে চান, আমরাও খেয়াল রাখব। ২০২৪ এ আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আন্দোলনে গণহত্যার বিরুদ্ধে তিনি একটা কথাও উচ্চারণ করেননি। তার দায়ভার আছে।”
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ বিষয়ে সন্ধ্যায় বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন প্রতিক্রিয়া দেন দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি বলেন, “আমরা দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে এই সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে গ্রেপ্তার এবং বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। পদত্যাগপত্রে তিনি যে ন্যারেটিভ টেনেছেন সেগুলো আসলে অপ্রাসঙ্গিক। অসুস্থতার অজুহাতের কথা বললেও তার পদত্যাগপত্রের মধ্যে এমনভাবে তিনি ন্যারেটিভ সাজিয়েছেন, যেটা আসলে তার জন্য একটা সেফ এক্সিটের জায়গা তৈরি করতে পারে। কিন্তু এই সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে সেফ এক্সিট দেওয়ার কোনো মানেই নেই। তিনি যত অপরাধ করেছেন সেই অপরাধগুলোতে তাকে অবশ্যই বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এই সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর মত একজন ফ্যাসিবাদের দোসর, একজন ফ্যাসিস্ট যদি বিচারের আওতায় না আসে, তাহলে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন তাদের বিচার অপূর্ণাঙ্গ থেকে যাবে।”
এদিকে শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক ও মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, “সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর থেকেই তিনি রাষ্ট্রপতির পদে থাকার নৈতিক ও রাজনৈতিক বৈধতা হারিয়েছিলেন। যে কারণেই সাহাবুদ্দিন চুপ্পু পদত্যাগ করে থাকুন না কেন, তার পদত্যাগে দেশের মানুষ স্বস্তি অনুভব করছে। তবে শুধু পদত্যাগের মাধ্যমে তার দায় শেষ হয়ে যায় না। তাকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত সব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে। প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।”