২৩তম রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন মির্জা ফখরুল?

আজাদ প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, বিএনপির প্রার্থী নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। সবকিছু নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এগোলে ওই দিনই জানা যাবে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন। তবে নির্বাচনের আগেই রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে—বঙ্গভবনের পরবর্তী বাসিন্দা হচ্ছেন কে?

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পর থেকেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়। বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সামনে আসে। বিষয়টি নিয়ে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামেও আলোচনা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত দলটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি।

এর মধ্যেই একাধিক সূত্রের বরাতে আলোচনা ছড়িয়েছে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। সূত্রগুলোর দাবি, তাকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। এখন বাকি রয়েছে কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও মনোনয়ন প্রক্রিয়া।

তবে বিএনপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়টিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

রাষ্ট্রপতি পদে কাকে প্রার্থী করা হবে—এ নিয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দলীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলের নামই বর্তমানে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। তবে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসে কি না, সেটিও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল অনেকটাই নির্ভর করছে জাতীয় সংসদের বর্তমান সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপর। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন না; সংসদ সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

বর্তমান সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে দলটি যাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেবে, তার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রয়োজনীয় ভোটের সংখ্যা ১৭৫।

এই হিসাবে বিএনপি একজন প্রার্থী মনোনয়ন দিলে এবং দলীয় সংসদ সদস্যরা তার পক্ষে ভোট দিলে তাকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা অনেকটাই নিশ্চিত—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফলাফলকে নিশ্চিত বলা যায় না।

৩৫ বছর পর আবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ময়দানে মির্জা ফখরুল

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের একটি পুরোনো যোগসূত্রও রয়েছে। ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ছিল সর্বশেষ সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনগুলোর একটি। সেই সময় ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন মির্জা ফখরুল।

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এবার রাষ্ট্রপতি পদে তার নাম আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। পার্থক্য হলো, এবার তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না; বরং বিএনপির মনোনয়ন পেলে সংসদ সদস্যদের ভোটে দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার লড়াইয়ে থাকবেন।

বিএনপির মহাসচিব থেকে বঙ্গভবনে?

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। দলটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারক হিসেবেও তিনি পরিচিত। রাষ্ট্রপতি পদে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে সেটি বিএনপির রাজনৈতিক কাঠামোতেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে।

কারণ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর দলীয় মহাসচিব হিসেবে তার বর্তমান দায়িত্বে পরিবর্তন আসতে পারে। ফলে মির্জা ফখরুলকে বঙ্গভবনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত শুধু রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর প্রভাব পড়তে পারে বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্বের ওপরও।

দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও কারাবন্দিত্ব

মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তার দীর্ঘ সময়ের কারাবন্দিত্ব। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তার ও কারাবন্দি হন।

দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মোট ১১ বার কারাগারে গিয়েছেন এবং সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন বছর কারাবন্দি ছিলেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে এসব গ্রেপ্তারকে রাজনৈতিক হয়রানি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। অন্যদিকে তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলার আইনগত কারণ দেখানো হয়েছিল। ফলে তার কারাবন্দিত্বের ঘটনাগুলো বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সংঘাতেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে।

শেষ মুহূর্তে কী হবে?

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির প্রস্তুতি ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়ন ফরমও সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে ফরম কার নামে জমা দেওয়া হবে, সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়। ১৬ আগস্ট হবে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। এরপর ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে ভোট।

তাই ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পরই অনেকটা স্পষ্ট হয়ে যাবে বিএনপির চূড়ান্ত পছন্দ কে।

বর্তমানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম সবচেয়ে জোরালোভাবে আলোচনায় থাকলেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সম্ভাবনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। শেষ মুহূর্তে অন্য কোনো নাম সামনে আসে কি না, সেটিও রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহলের বিষয়।

তবে বিএনপি যদি শেষ পর্যন্ত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেই মনোনয়ন দেয়, তাহলে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে বিএনপির মহাসচিব থেকে তিনি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে আসীন হবেন।

আর সেই সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হতে অপেক্ষা করতে হবে ১৩ আগস্টের মনোনয়নপর্ব এবং ২০ আগস্টের নির্বাচনের দিকে।
 

এলাকার খবর

সম্পর্কিত