বান্দরবানে সেনাবাহিনী-জেএসএস গোলাগুলি, নিহত ১

বান্দরবান প্রতিনিধি
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার তারাছা ইউনিয়নের মুরুংগো বাজার এলাকায়  সোমবার বিকালে সেনা সদস্যদের সঙ্গে একদল অস্ত্রধারীর গোলাগুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। অস্ত্রধারী ব্যক্তিদের পুলিশ ও সেনাবাহিনীর তরফে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সদস্য বলে দাবি করা হয়েছে।

রোয়াংছড়ি থানার ওসি এম সাকের আহমেদ রাত ১০টার দিকে বলেন, “সেনাবাহিনীর সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে শুনেছি।”

বান্দরবান সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা দিলীপ চৌধুরী বলেন, “রাত সাড়ে ৮টার দিকে ওই যুবককে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীরে গুলি লেগেছে কি না, আমি দেখিনি। তবে তার ডান হাত ও ডান পা থেঁতলানো মনে হয়েছে। আনুমানিক ৩০ বছরের ওই যুবককে অজ্ঞাত হিসেবে দেখানো হয়েছে।”

সেনাবাহিনীর তরফে বলা হয়েছে, অভিযানে আহত হওয়ার পর ওই ব্যক্তির কাছে একটি এসএমজি বন্দুক ও ১৪৩ রাউন্ড গুলি পাওয়া গেছে।

গোলাগুলির ঘটনার বিষয়ে ওসি বলেন, বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সেনাবাহিনীর টহল দল ও একদল অস্ত্রধারী মুখোমুখি হলে তাদের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। এক পর্যায়ে অস্ত্রধারীরা ফাঁকা গুলি করে জঙ্গলে পালিয়ে যায়।

স্থানীয়দের বরাতে অস্ত্রধারীরা জেএসএস সদস্য বলে সাংবাদিকদের তথ্য দেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।

মুরুংগো বাজার বান্দরবান-রুমা সড়কে অবস্থিত। জেলা শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার। এলাকাটি ম্রো অধ্যুষিত। এর আশপাশে কিছু খুমি, ত্রিপুরা ও মারমা পরিবারও বসবাস করে।

তারাছা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উনুমং মারমা বলেন, বিকালে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাইরুন পাড়ার দিকে স্থানীয়রা গোলাগুলির শব্দ শুনেছেন বলে তাকে জানিয়েছেন। যে এলাকায় ঘটনা ঘটছে, সেখানে কোনো মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক নেই।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মুরুংগো বাজার এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, “বেশ কিছুক্ষণ থেমে থেমে গোলাগুলি চলে। এখন অবশ্য বন্ধ হয়েছে। মুরুংগো বাজার ব্রিক ফিল্ড এলাকার পাশে একটা ঝরনা রয়েছে। মূলত সেখান থেকে গুলির শব্দটা আসে। তবে কোনো হতাহতের খবর আমরা পাইনি।’’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সামি উদ দৌলা চৌধুরী বলেন, ‘জেএসএস সদস্যরা চাঁদাবাজি করছে খবর পেয়ে সেনাসদস্যদের টহল টিম ঘটনাস্থলে যায়। এরপর তারা সেনাসদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি করতে করতে পিছিয়ে যায়। পরে ফোর্স বাড়িয়ে সামনের দিকে গেলে তারা সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে আবার গুলি করতে শুরু করে। এ সময় উভয়ের মধ্যে গুলি বিনিময় হয়। একপর্যায়ে জেএসএস বাহিনীর সদস্যরা পালিয়ে যায়।’

পরে ঘটনাস্থলে ‘ইউনিফর্ম পরিহিত’ জেএসএস এর এক সদস্যকে আহত অবস্থায় পাওয়ার তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, তার কাছে একটি এলএমজি বন্দুক ও ১৪৩ রাউন্ড গুলি পাওয়া গেছে। তাকে পুলিশের সহায়তায় সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, ‘অভিযান এখনো চলছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।’

রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “অভিযানে সেনা টহল দল ঘটনাস্থল তল্লাশি চালিয়ে ইউনিফর্ম পরিহিত হ্লামংনু মার্মা নামক একজন সশস্ত্র জেএসএস (মূল) সদস্যকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে। তার চিকিৎসার জন্য পুলিশের সহায়তায় জরুরি ভিত্তিতে তাকে বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠানো হয় ‘

এ বিষয় জানতে জেএসএস কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাধুরাম ত্রিপুরা মিল্টনের মোবাইলে ফোন করা হয়। তবে সেটি বন্ধ ছিল।

তবে নাম প্রকাশ না করে জেএসএসের আরেকজন কেন্দ্রীয় নেতা রাতে বলেন, তিনি বিষয়টি ফেইসবুকে দেখেছেন। এর বাইরে কিছু জানেন না।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত