রংপুরে দুই সরকারি স্কুলের ভবন নির্মাণে ৪ বছরের বিলম্ব

রংপুর ব্যুরো:
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

রংপুরে দুটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময় পেরিয়ে চার বছরেও শেষ হয়নি। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। একটি বিদ্যালয়ের কাজ শেষ পর্যায়ে থাকলেও অন্যটির কাজ শেষ হতে আরও প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের পর নগরীর উত্তম মৌজার হাজীপাড়া (পুরোনো রেডিও সেন্টার) এবং কামাল কাছনা মৌজার বোতলাপাড়ায় দুটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ভূমি অধিগ্রহণ ও দরপত্র শেষে ২০২২ সালের মার্চে এসএসএল-এসই-এমএ জেভি নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ওই বছরের ২৩ আগস্ট নির্মাণকাজ শুরু হয়।

প্রতিটি বিদ্যালয়ের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ২৩ কোটি ১০ লাখ ৮ হাজার ৪৩২ টাকা। ১০ তলাবিশিষ্ট ভবনের কাজ ৩৬ মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও চার বছরেও তা সম্পন্ন হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হাজীপাড়ার বিদ্যালয়ে ভবনের প্লাস্টার, রং ও জানালার গ্রিল স্থাপনের কাজ এখনো বাকি। অন্যদিকে বোতলাপাড়ার বিদ্যালয়ের মূল নির্মাণ শেষ হলেও রংসহ কিছু আনুষঙ্গিক কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে।

স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, সরকারি বিদ্যালয়ে আসন সংকটের কারণে প্রতিবছর অনেক শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারে না। নতুন দুটি বিদ্যালয় চালু হলে এ সংকট অনেকটাই কমে যেত।

হাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা আইরিন আক্তার বলেন, বেসরকারি বিদ্যালয়ের ব্যয় বহন করা অনেক পরিবারের পক্ষে কঠিন। তাই দ্রুত বিদ্যালয় দুটি চালুর দাবি জানান তিনি।

রংপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বলেন, সময়মতো নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় আগামী শিক্ষাবর্ষেও নতুন দুটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা সম্ভব হবে না।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদ জানান, নিয়মিত কাজ চললে আরও প্রায় ছয় মাস সময় লাগবে।

রংপুর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রতীশ চন্দ্র সেন বলেন, করোনা-পরবর্তী পরিস্থিতি, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি এবং কারিগরি জটিলতার কারণে কাজ বিলম্বিত হয়েছে। বোতলাপাড়ার বিদ্যালয়ের কাজ আগামী অক্টোবর-নভেম্বরের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে হাজীপাড়ার বিদ্যালয়ের কাজ শেষ হতে আরও প্রায় এক বছর লাগতে পারে।

তিনি আরও জানান, সময় বাড়লেও নির্মাণ ব্যয় বাড়বে না। ভবন নির্মাণ শেষে তা প্রধান শিক্ষকের কাছে হস্তান্তর করা হবে। শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

বিষয়:

রংপুর
এলাকার খবর

সম্পর্কিত