রংপুরে যুবদল নেতাকে হত্যা: দাসপাড়ায় বাড়িঘর-দোকানে হামলা

রংপুর ব্যুরো
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

হামলার শিকার অধিকাংশ দোকানপাট ও বাড়িঘর হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের

রংপুর নগরীতে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যার পর হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে নগরীর দাসপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রংপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “হত্যাকাণ্ডে পূর্বশত্রুতা, মাদক ব্যবসা, আধিপত্য বিস্তার ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যৌথভাবে কাজ করছে এবং দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। যে কোনো সম্প্রদায়ের নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে। কোথাও গাফিলতি থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে।”

বৃহস্পতিবার বিকালে নগরীর দাসপাড়া মোড়ে রাকিব হাসান (২০) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি মহানগর যুবদলের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ও বর্তমান প্রস্তাবিত কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

পাশের তাঁতিপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. মমিনের (৪২) সঙ্গে ‘মাদক ব্যবসা নিয়ে’ দ্বন্দ্বের জেরে রাকিব হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে স্থানীয়দের ধারণা।

এ হত্যাকাণ্ডের জের ধরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।

তারা জানান, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে ৪০-৫০ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে অন্তত ২০টি দোকান এবং প্রায় ১০টি বাড়ির ফটক, জানালা ও টিনের বেড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যে এলাকায় হামলা হয়েছে সেই দাসপাড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের বসবাস বেশি।

চা দোকানি বিনোদিনী দাস বলেন, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পরপরই হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি ভাঙচুর চালায়। তাদের হাতে দেশীয় অস্ত্র, চাইনিজ কুড়াল ও লাঠিসোঁটা ছিল।

একজন মুদি দোকানদার বলেন, “দুপুর থেকেই কিছু লোক অস্ত্র নিয়ে এলাকায় ঘোরাফেরা করছিল। হামলার পর দেখি আমার দোকানের শাটার ভেঙে ফেলা হয়েছে। এখন নিরাপত্তাহীনতায় দোকান বন্ধ রেখেছি।”

স্থানীয় বাসিন্দা সবিতা রানী বলেন, “আমরা কোনো অপরাধ করিনি। তবু আমাদের বাড়িতে হামলা হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।”

আরেক ভুক্তভোগী নমিতা দাস অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাদের বাড়ির ফটকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে এবং হুমকি দেয়। হামলার সময় তিনি পরিবারসহ ঘরের ভেতরে আশ্রয় নেন।

এদিকে হত্যার শিকার রাকিবের পরিবার দাবি করেছে, এই হামলার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

রাকিবের বোন রুবিনা বেগম বলেন, “আমার ভাইকে তো কোনো হিন্দু লোক মারেনি, তাহলে তাদের দোকান-বাড়ি ভাঙতে যাব কেন? তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। মরদেহ দাফনের পর বাবা-মা অজ্ঞান হয়ে পড়েন, আমরা তাদের নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম। মমিনের জামাই লোকজন এনে কিছু হিন্দু ও মুসলমানদের দোকান ভাঙচুর করেছে, যাতে মামলাটি হালকা করা যায়।”

নিহত রাকিবের মা নূরজাহান বেগম বলেন, “হত্যাকারীরা আমাদের ওপর দোষ চাপানোর জন্য এ ঘটনা ঘটিয়েছে। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।”

কোতোয়ালি থানার ওসি আজাদুর রহমান বলেন, হামলা ও হত্যার ঘটনা আলাদাভাবে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ ঘটনায় রাকিবের বাবা আবদুস সামাদ বাদী হয়ে সাতজনের নাম দিয়ে অজ্ঞাত তিনজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। মামলায় মো. মমিন, তার স্ত্রী সুইটি বেগমসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

বিষয়:

রংপুর
এলাকার খবর

সম্পর্কিত