রাজবাড়ীতে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে রাতের আঁধারে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে পুড়ে গেছে কার্যালয়ের দেওয়ালে থাকা ব্যানার, লাইট এবং সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গেট। শুক্রবার (২ অক্টোবর) দিবাগত গভীর রাতে কোনো এক সময় এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে সকালে জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আগুন লাগার খবর পেয়ে ছুটে আসেন জেলা বিএনপিসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং রাজবাড়ী সদর থানার পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
এ সময় জেলা বিএনপির নেতারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে রাজবাড়ীসহ সারা দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তারা মাদক বেচাকেনা, সেবন ও অস্ত্র পাচারের সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকার পরও বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এদের আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
জানা গেছে, রাত ১টার দিকে দলীয় কার্যালয়ের কেয়ারটেকার সব রুম ও গেটের তালা চেক করে বাড়িতে যান। সকালে এসে আগুনের ঘটনা দেখতে পান।
কেয়ারটেকার আতর আলী বলেন, রাত ১টার দিকে তালা চেক করে বাড়িতে যাই, তখন এখানে কেউ ছিল না। সকাল সাড়ে ৮টার পর খবর পাই রাতে কে বা কারা দলীয় কার্যালয়ের গেটে আগুন দিয়েছে। তখন তাড়াতাড়ি এসে বিষয়টি নেতাদের জানাই।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আহসান হাবিব বলেন, এ ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দুষ্কৃতকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাই। যারা ঘটনাটি ঘটিয়েছে তাদের প্রকাশ্যে বিএনপিকে মোকাবিলা করার মতো সাহস নাই। এরা চোরাগুপ্ত ঘাতক। রাজবাড়ীর রাজনীতিকে নষ্ট ও উন্নয়নে বাধাগ্রস্ত ও পরিবেশ নষ্ট করতে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব অধ্যক্ষ মঞ্জুরুল আলম দুলাল বলেন, এই ঘটনা উদ্দেশ্যমূলক ও পরিকল্পিত। ফ্যাসিবাদরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। ঘটনা উদঘাটনে পুলিশকে সহযোগিতা করতে আমরা নিজেরাও দলের পক্ষ থেকে ঘটনার তদন্ত করব।
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, বিএনপি পার্টি অফিসে আগুন দেওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে কেরোসিন দিয়ে আগুন দেওয়ার বিষয়টি জানা গেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন তিনি।