কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে কেন্টের জার্সিতে ফিরেই বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ। উস্টারশায়ারের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৬৮ রানে ৪ উইকেট নিয়ে দলকে ২১ রানের লিড এনে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ২৬ বছর বয়সী এই ডানহাতি পেসার।
ক্যান্টারবুরিতে ম্যাচের প্রথম ইনিংসে কেন্ট ২৩৮ রানে অলআউট হওয়ার পর ব্যাটিংয়ে নামে উস্টারশায়ার। শুরুতেই প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে দেন হাসান। ইনিংসের শুরুতে জোড়া আঘাত করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও তৈরি করেছিলেন তিনি। ছন্দে থাকা ওপেনার জেক লিবির স্টাম্প উপড়ে ফেলার পরের বলেই রেহান এডাভালাথকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন হাসান। তবে এরপর ড্যানিয়েল লেটগ্যান ও অ্যাডাম হোসের ব্যাটে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায় উস্টারশায়ার। তৃতীয় উইকেটে লেটগ্যান ও হোস যোগ করেন ৯৯ রান। লেটগ্যান ৫৯ এবং হোস ৫০ রান করেন। তাদের জুটি ভাঙেন ম্যাট মিল্নস ও কিথ ডাজন। এরপর দ্রুতই গুটিয়ে যায় উস্টারশায়ারের ইনিংস। শেষ পর্যন্ত ২১৭ রানে অলআউট হয় তারা। ম্যাচে হাসানের বোলিংয়ের পাশাপাশি কেন্টের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মিল্নস ও ডাজন। মিল্নস নেন ৩ উইকেট, ডাজনের শিকার ২ উইকেট। আর উস্টারশায়ারের শেষ দুই ব্যাটার ম্যাথু ওয়েইট ও অ্যাডাম ফিঞ্চকে ফিরিয়ে ইনিংস শেষ করেন হাসান।
ফলে প্রথম ইনিংসে ২৩৮ রান করেও ২১ রানের লিড পায় কেন্ট। লিড পেয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে আরও ভালো অবস্থানে চলে যায় দলটি। দ্বিতীয় দিন শেষে ৩ উইকেটে ১৯৭ রান করে কেন্ট। তৃতীয় দিনের খেলা চলার সময় তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ২৪৯ রান। এতে মোট লিড বেড়ে হয়েছে ২৭০ রান।
কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে প্রতিটি দল এক ম্যাচে সর্বোচ্চ দুজন বিদেশি ক্রিকেটার খেলাতে পারে। উস্টারশায়ারের বিপক্ষে কেন্টের একাদশে হাসানের সঙ্গে ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার কিথ ডাজন। ফলে বাংলাদেশের আরেক পেসার সৈয়দ খালেদ আহমেদের একাদশে জায়গা হয়নি। কেন্টে ফিরে হাসানের এমন পারফরম্যান্স অবশ্য নতুন নয়। এর আগে কাউন্টিতে প্রথম দফায় দুটি ম্যাচ খেলেই ১২ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। ডিভিশন টু থেকে ডিভিশন ওয়ানে ওঠার লড়াইয়ে থাকা কেন্ট তাই তাঁকে আবার দলে পেয়ে স্বস্তি পেয়েছে। পয়েন্ট তালিকায়ও দলটি রয়েছে তৃতীয় স্থানে।
হাসানের বোলিংয়ে মুগ্ধ কেন্ট সতীর্থ ম্যাট মিল্নস। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের পেসারের প্রশংসা করে তিনি বলেন, হাসান দলের বোলিং আক্রমণে বাড়তি ‘এক্স-ফ্যাক্টর’ যোগ করেছেন। মিল্নসের মতে, হাসানের বোলিং অ্যাকশন কিছুটা ভিন্ন হওয়ায় ব্যাটসম্যানদের জন্য তাঁকে বুঝে ওঠা কঠিন। তাঁর ভালো গতি এবং ভিন্নধর্মী অ্যাকশনের সমন্বয় হাসানকে প্রতিপক্ষের জন্য কঠিন করে তোলে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মিল্নস আরও বলেন, হাসানকে সতীর্থ হিসেবে পাওয়ায় কেন্ট ভাগ্যবান। প্রতিপক্ষ হিসেবে তাঁর মুখোমুখি হওয়ার চেয়ে নিজের দলে তাঁকে পাওয়া অনেক বেশি স্বস্তির।
কাউন্টিতে ফেরার আগে জাতীয় দলের হয়েও দুর্দান্ত সময় কাটিয়েছেন হাসান। গত মাসে অস্ট্রেলিয়া সফরে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে নজর কাড়েন তিনি। ডারউইনে স্বাগতিকদের বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ে ম্যাচসেরা হন হাসান। মারারা স্টেডিয়ামে সেই ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটসহ মোট ৯ উইকেট নিয়ে দলের জয়ে বড় অবদান রাখেন।
কাউন্টিতে ফেরার ম্যাচেও সেই ছন্দ ধরে রাখায় হাসানের সামনে এখন কেন্টকে ডিভিশন ওয়ানে তোলার লড়াইয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে।