দেশে বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ। বিপরীতে এখনো ২২ শতাংশের বেশি মানুষ নিরক্ষর, যারা কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা ও দক্ষতার বাইরে রয়েছেন। এ তালিকায় বিদ্যালয়বহির্ভূত ও ঝরে পড়া শিশু-কিশোর, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং শিক্ষা থেকে বঞ্চিত প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ রয়েছেন।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই আগামীকাল মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশে পালিত হবে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্যের সঙ্গে মিল রেখে এবার বাংলাদেশে দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’।
দিবসটি সামনে রেখে সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাক্ষরতা পরিস্থিতি ও সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে দেশের ৫৮ জেলার সদর উপজেলায় ‘কার্যকর সাক্ষরতা ও ব্যবহারিক কর্মদক্ষতা প্রশিক্ষণ (প্রাক্-বৃত্তিমূলক পর্যায়)’ কার্যক্রম চলছে। প্রথম ধাপে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী ঝরে পড়া ৪ হাজার ৪৪০ জন কিশোর-কিশোরীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। প্রতিটি কোর্সে ৪৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণের মধ্যে ১০০ ঘণ্টা কার্যকর সাক্ষরতা এবং ৩৬০ ঘণ্টা দক্ষতা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য হলো শিক্ষা থেকে কর্মে উত্তরণের সুযোগ তৈরি করা। বিশেষ কার্যক্রমে নিবন্ধিত ৪ হাজার ৩১২ জনের মধ্যে ৪ হাজার ১৯৮ জন দক্ষ হিসেবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৩ হাজার ৮৮২ জন কোনো না কোনো ধরনের চাকরির সংযোগ পেয়েছেন এবং ৬০৩ জন সরাসরি কর্মসংস্থানে যুক্ত হয়েছেন।
সরকার ভবিষ্যতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার পরিধি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নিয়েছে বলেও জানান ববি হাজ্জাজ।
সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব জেসমিন নাহার এবং উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব মনোয়ারা ইশরাত উপস্থিত ছিলেন।
শু/আজা