চট্টগ্রাম রয়্যালসের সাবেক মালিক কাইয়ুম রাশেদ ও আমিন খানের বিরুদ্ধে চারটি করে অভিযোগ
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সর্বশেষ দুই আসর ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগে আরও দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে দুজনকেই সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত দুজন হলেন চট্টগ্রাম রয়্যালসের সাবেক মালিক মো. আবদুল কাইয়ুম রাশেদ এবং দুর্বার রাজশাহীর ১১তম ও চট্টগ্রাম রয়্যালসের ১২তম আসরের সাবেক কর্মকর্তা মো. আমিন খান। বিসিবির অ্যান্টিগ্রিটি ইউনিটের তদন্তের ভিত্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
কাইয়ুম রাশেদের বিরুদ্ধে আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী বিধিমালার চারটি ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ম্যাচের ফল বা ম্যাচের গতিপথ প্রভাবিত করার চেষ্টা, দুর্নীতির প্রস্তাব বা যোগাযোগের তথ্য যথাসময়ে জানাতে ব্যর্থ হওয়া, তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং তদন্তে বাধা সৃষ্টি বা বিলম্ব ঘটানোর অভিযোগ।
তদন্তে অসহযোগিতার উদাহরণ হিসেবে তাঁর ব্যবহৃত প্রধান মুঠোফোন বিসিবির দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তাদের কাছে জমা না দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছে বোর্ড। বিসিবির ভাষ্য অনুযায়ী, ফোনটি ফরেনসিক পরীক্ষা করা সম্ভব না হওয়ায় সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ও তথ্য যাচাই করা যায়নি।
অন্যদিকে আমিন খানের বিরুদ্ধেও আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী বিধিমালার চারটি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ম্যাচের ফল বা ম্যাচের কোনো দিক অনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা, কোনো অংশগ্রহণকারীকে দুর্নীতিতে উৎসাহিত বা সহায়তা করা, তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ বা তথ্য গোপন বা নষ্ট করার অভিযোগ রয়েছে।
বিসিবি জানিয়েছে, অভিযোগের নোটিশ পাওয়ার পর নিজেদের বক্তব্য জানানোর জন্য কাইয়ুম রাশেদ ও আমিন খান—দুজনই ১৪ দিন সময় পাবেন। আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী বিধিমালা অনুযায়ী চলমান শাস্তিমূলক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তাঁদের এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, বিসিবির ঘোষণাটি এখনো চূড়ান্ত দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নয়; বরং অভিযোগের ভিত্তিতে চলমান শাস্তিমূলক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়ার পর প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ নির্ধারিত হবে।