রহস্য স্পিনার হিসেবে পরিচিতি নিয়ে জাতীয় দলে জায়গা পেয়েছিলেন আলিস আল ইসলাম। কিন্তু আন্তর্জাতিক ওয়ানডে অভিষেকেই বড় ধাক্কা খেলেন বাংলাদেশের এই স্পিনার। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে খরুচে বোলিংয়ের পর এবার প্রশ্ন উঠেছে তাঁর বোলিং অ্যাকশন নিয়ে। ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের বোলিং অ্যাকশন বৈধ প্রমাণ করতে আইসিসি অনুমোদিত পরীক্ষাগারে স্বতন্ত্র মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে যেতে হবে তাঁকে।
বুধবার শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে আলিসের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন ম্যাচ কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।
ত্রিদেশীয় সিরিজে টিকে থাকার লড়াইয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে আলিসকে ওয়ানডে অভিষেক করায় বাংলাদেশ। এর আগে গত মাসে এশিয়ান গেমসে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয় তাঁর। সেই টুর্নামেন্টেও মাত্র একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন এই স্পিনার।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেকটা অবশ্য ভালো হয়নি আলিসের। ৮.৫ ওভার বোলিং করে ৪৭ রান দিলেও কোনো উইকেট পাননি তিনি। করতে পারেননি কোনো মেডেন ওভারও। বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে ম্যাচে তাঁর বোলিংয়ের প্রভাব নিয়ে আলোচনা তুলনামূলক কম হলেও বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় নতুন করে চাপে পড়েছেন এই স্পিনার।
আলিসের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে বিতর্ক অবশ্য এবারই প্রথম নয়। ঘরোয়া ক্রিকেটে ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই একাধিকবার এ নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন তিনি। প্রতিবারই পরীক্ষা ও সংশোধনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বোলিংয়ে ফেরার অনুমতি পেয়েছেন।
২০১৯ সালের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) অভিষেকেই হ্যাটট্রিক করে আলোচনায় এসেছিলেন আলিস। কিন্তু সেই টুর্নামেন্টেই তাঁর বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আগেই চোটের কারণে প্রায় আট মাস মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাঁকে। পরে বোলিং অ্যাকশন সংশোধন করে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ঘরোয়া ক্রিকেটে বোলিংয়ের অনুমতি পান তিনি।
এরপরও চোটের কারণে বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে তাঁর ক্যারিয়ার। দীর্ঘ বিরতি ও অনিয়মিত খেলার মধ্যেও বৈচিত্র্যময় স্পিনে নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেন আলিস। তবে ২০২৫ সালের বিপিএলে আবারও তাঁর বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পুনরায় পরীক্ষা দিয়ে বোলিংয়ের অনুমতি পাওয়ার পর ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলতে থাকেন তিনি। সেই পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় সুযোগ পান জাতীয় দলে।
কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলার শুরুতেই আবারও বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়লেন আলিস। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশনের বিষয়ে পরীক্ষার ফল ও পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিং চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি। পরীক্ষায় অ্যাকশন অবৈধ প্রমাণিত হলে তা সংশোধন করে পুনরায় মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে তাঁকে।
রহস্য স্পিনের জন্য পরিচিত আলিসের সামনে তাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ—নিজের বোলিং অ্যাকশনের বৈধতা প্রমাণ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জায়গা ধরে রাখা।