রাজধানীর আবদুল গনি রোড থেকে শেরেবাংলা নগরে সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্যোগ জোরদার করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রায় ৩ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করা হচ্ছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, রাজধানীর সাবেক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার মাঠে নতুন সচিবালয় কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি বর্তমান সচিবালয় চত্বরে পুরান ঢাকার নিম্ন আদালত স্থানান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে।
তবে নতুন সচিবালয় নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন এখনো মেলেনি। প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি, নকশা চূড়ান্তকরণ ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্মাণকাজ উদ্বোধনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের নকশা প্রধানমন্ত্রী দেখেছেন এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন। সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী কাজ চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সচিবালয় স্থানান্তর প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৪০৯ কোটি ৪৪ লাখ ২৯ হাজার টাকা। প্রকল্পের সম্ভাব্য বাস্তবায়নকাল চলতি বছরের নভেম্বর থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে প্রকল্প অনুমোদন ও অন্যান্য প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার ওপর নির্মাণকাজ শুরুর সময় নির্ভর করবে।
গণপূর্ত অধিদপ্তর নতুন কমপ্লেক্সের বিভিন্ন ভবনের অবস্থান নির্ধারণ করে একটি লে-আউট প্রস্তুত করেছে। প্রকল্পটি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এ জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে অনুমোদন পাওয়া গেলে বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু করার পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ডিসেম্বরেই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের লক্ষ্য রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করবেন—এমন পরিকল্পনা সামনে রেখে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে তিন বছরের মধ্যে কয়েকটি মন্ত্রণালয় নতুন কমপ্লেক্সে স্থানান্তরের লক্ষ্য রয়েছে। তবে পুরো নির্মাণকাজ শেষ করতে চার থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে ভবন নির্মাণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যক্রম স্থানান্তরের প্রস্তুতি নিতে হবে।
গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্মাণকাজ শুরু করতে চান বলে সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। তবে প্রকল্পের অনুমোদন, নকশা চূড়ান্তকরণ ও অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা যাবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
স্থাপত্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নতুন সচিবালয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সামনে তিনটি বিকল্প নকশা উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদনের পর গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন সচিবালয় কমপ্লেক্স নির্মিত হলে সরকারি দপ্তরগুলোর স্থানসংকট নিরসন, মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যক্রম সমন্বয় এবং প্রশাসনিক অবকাঠামো পুনর্বিন্যাসের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রকল্পের চূড়ান্ত নকশা, ভবনের সংখ্যা, স্থানান্তরের আওতায় থাকা মন্ত্রণালয়ের তালিকা এবং বর্তমান সচিবালয় ভবনগুলোর ভবিষ্যৎ ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।