মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশকে ‘এযাবৎকালের সেরা পরামর্শ’ বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তাঁর দাবি, মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করতে গিয়ে তাঁকে ঘিরে একটি গণমাধ্যম ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার ও চরিত্রহননের প্রস্তুতি নিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে পদত্যাগ করায় সেই ‘ভয়াবহ চক্রান্ত’ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পেরেছেন বলে মনে করছেন তিনি।
মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র হাতে অংশ নেওয়ার ভিডিও নিয়ে বিতর্কের মধ্যে সোমবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন ইশরাক। সেদিন তিনি বলেছিলেন, তাঁর কারণে বিএনপি বা সরকার যাতে বিব্রত না হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কাজ আড়ালে পড়ে না যায়, সে জন্যই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে ইশরাক বলেন, প্রথমে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের নির্দেশকে শাস্তি মনে হলেও পরে তিনি বুঝতে পেরেছেন, ওই সিদ্ধান্তের পেছনে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ রক্ষার বিষয়টিও বিবেচনায় ছিল। তিনি লেখেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়ে এযাবৎকালের সেরা পরামর্শটি দিয়েছিলেন, যা আমি একবাক্যে মেনে নিয়েছিলাম।”
ইশরাকের ভাষ্য, মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করতে গিয়ে এমন একটি পরিস্থিতির সূত্রপাত হয়েছিল, যা তাঁকে রাজনৈতিকভাবে বিপদে ফেলতে পারত। তিনি বলেন, “আমি একটি কঠিন কাজ (মাদকবিরোধী) শুরু করতে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে সূত্রপাত হওয়া এক ভয়াবহ চক্রান্ত থেকে নিজেকে পাশ কাটিয়ে রক্ষা করতে পেরেছি।”
পদত্যাগী প্রতিমন্ত্রীর অভিযোগ, তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক ‘বিধ্বংসী প্রতিবেদন’ ও মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে চরিত্রহনন এবং তাঁকে জনসমালোচনার মুখে ফেলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পাশাপাশি শুভাকাঙ্ক্ষী জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি করে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে একঘরে করার চেষ্টা হতে পারত বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের ইতি টানতে হতো বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন ইশরাক। তবে কথিত চক্রান্তের সঙ্গে কোনো গণমাধ্যম, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার পক্ষে তিনি পোস্টে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তুলে ধরেননি।
অস্ত্র হাতে অভিযানের ভিডিও নিয়ে বিতর্ক
শনিবার বিকেলে নিজের ফেসবুক পেজে গেণ্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানের একাধিক ভিডিও প্রকাশ করেন ইশরাক হোসেন। একটি ভিডিওতে ঢাকার গেণ্ডারিয়ার রেললাইনের পাশের একটি এলাকায় তাঁকে অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নিতে দেখা যায়। তাঁর সঙ্গে থাকা আরেক ব্যক্তির হাতেও অস্ত্র ছিল। অন্য একটি ভিডিওতে কয়েকজনকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
ভিডিওগুলো প্রকাশের পর একজন জনপ্রতিনিধির অস্ত্র হাতে এভাবে অভিযানে অংশ নেওয়ার বৈধতা ও দায়িত্বের সীমা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে তাঁর পদত্যাগের ঘটনা সামনে আসে।
বৃহস্পতিবারের পোস্টে ইশরাক দাবি করেন, একই চক্র অতীতে তারেক রহমানের বিরুদ্ধেও ‘ভয়াবহ অন্যায় পরিকল্পনা’ করেছিল। তাঁর ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী তাঁকে সেই ঘটনার কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন।
বিএনপির কেউ সুযোগসন্ধানী হয়ে কথিত ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন ইশরাক। তিনি লেখেন, “আমরা ঢাকার মানুষ, ক্ষেত খামারির কূটচাল এখানে চলবে না।”
নিজেকে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি ‘অন্ধ বিশ্বাস রাখা একজন কর্মী’ হিসেবে বর্ণনা করে ইশরাক বলেন, তারেক রহমান তাঁকে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহ করেন এবং তাঁর জন্য কোনটি ভালো, তা বিবেচনায় রাখেন। এর প্রমাণ তিনি জীবনে বারবার পেয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।
নিজের বক্তব্যকে কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি সাধারণ পোস্ট হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়ে ইশরাক লিখেছেন, “আমি শুধু অবাক হয়ে কয়েক দিন আগে বলা তাঁর (প্রধানমন্ত্রী) কথাগুলোর সঙ্গে আজকের পরিস্থিতি মিলিয়ে দেখছি।”
পোস্টে তিনি পদত্যাগের নির্দেশকে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ রক্ষার পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তবে তাঁর অভিযোগ করা কথিত চক্রান্তের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম বা অন্য কোনো পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা দিয়ে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।