এনসিপিতে অন্তর্দ্বন্দ্ব : জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা নিয়েও অস্বস্তি

এনসিপির নতুন কমিটিতে ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস, প্রশ্নে স্বতন্ত্র রাজনীতি ও নারী নেতৃত্ব

বিশেষ প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১০
 ছবি:

১৯৫ সদস্যের কমিটি ঘিরে পদাবনতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক; ১৬ সদস্যের রাজনৈতিক কাউন্সিলে নারী মাত্র দুজন,

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ভাঙার প্রত্যাশা নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছিল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। প্রচলিত দলগুলোর বাইরে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি, জবাবদিহি, বৈষম্যহীনতা ও অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি ছিল দলটির পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু গঠনের প্রায় ২০ মাসের মাথায় কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন ঘিরে যে বিতর্ক সামনে এসেছে, তা দলটির সাংগঠনিক কাঠামোর পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

গত ২৩ অক্টোবর ১৯৫ সদস্যের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর কয়েকজন নেতার পদমর্যাদা পরিবর্তন, রাজনৈতিক কাউন্সিলে নারী প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়া, কাউন্সিল গঠন নিয়ে প্রশ্ন এবং জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতার বিরোধিতা—সব মিলিয়ে এনসিপির অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন প্রকাশ্যে এসেছে। জুলাই আন্দোলনের সাবেক কয়েকজন সহযোদ্ধা ও দলত্যাগী নেতার সমালোচনাও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে।

বিতর্কের কেন্দ্রে এখন তিনটি প্রশ্ন—নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত কতটা অংশগ্রহণমূলক ছিল, নেতৃত্বের পুনর্বিন্যাসে কোন মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে এবং নির্বাচনি সমঝোতার পরও এনসিপি নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান কতটা স্বাধীনভাবে নির্ধারণ করতে পারছে।

পদবিন্যাসে বদল, সাতটি পদ বিলুপ্ত

নতুন কমিটিতে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন আগের পদেই রয়েছেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে পরিবর্তন এসেছে। দলের সাবেক মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং দক্ষিণাঞ্চলের সাবেক মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ হয়েছেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক। সাবেক মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম এবং সাবেক মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া পেয়েছেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিবের দায়িত্ব।

অন্যদিকে, আগের কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ও আরিফুল ইসলাম আদীবকে করা হয়েছে যুগ্ম আহ্বায়ক। জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব নাহিদা সারওয়ার নিভা হয়েছেন যুগ্ম সদস্যসচিব। আবদুল হান্নান মাসউদও আগের দায়িত্বের তুলনায় ভিন্ন পদে এসেছেন।

পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে মুখ্য সমন্বয়ক, উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক, মুখপাত্র, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক, সংগঠক এবং যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়কসহ সাতটি সাংগঠনিক পদ বিলুপ্ত হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন কমিটিতে সম্পাদকীয় দায়িত্বের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। এটি কেবল কয়েকজন নেতার পদ পরিবর্তন নয়; দলের সাংগঠনিক কাঠামোও নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। নতুন বিন্যাসে কারা নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তের কাছাকাছি থাকবেন, কারা সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করবেন এবং কোন পর্যায়ে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হবে—সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।

তবে পদমর্যাদা কমেছে বলেই সংশ্লিষ্ট নেতাদের পরিকল্পিতভাবে কোণঠাসা করা হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রকাশ্য প্রমাণ নেই। নেতৃত্বের মূল্যায়ন, সাংগঠনিক দক্ষতা, দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা কিংবা দলীয় কৌশল—কোন বিষয় কতটা গুরুত্ব পেয়েছে, তা স্পষ্ট হলে বিতর্কের অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে।

এনসিপির নেতারা সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসকে দলের বিস্তার ও রাজনৈতিক বাস্তবতার অংশ হিসেবে দেখছেন। কিন্তু সমালোচকদের প্রশ্ন, বড় ধরনের পুনর্গঠনের আগে জাতীয় কাউন্সিল বা বিস্তৃত অভ্যন্তরীণ পরামর্শের পথ অনুসরণ করা হলো না কেন? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তালিকা প্রকাশের মধ্য দিয়ে সিদ্ধান্ত জানানো আর তৃণমূলের মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া এক বিষয় নয়।

রাজনৈতিক কাউন্সিলে নারী মাত্র দুজন

নতুন কমিটি ঘিরে সবচেয়ে স্পর্শকাতর প্রশ্নগুলোর একটি নারী নেতৃত্বের প্রতিনিধিত্ব। এনসিপি আত্মপ্রকাশের সময় নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও বৈষম্যহীনতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। অথচ দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কাঠামো হিসেবে পরিচিত ১৬ সদস্যের রাজনৈতিক কাউন্সিলে নারী রয়েছেন মাত্র দুজন—মাহমুদা আলম মিতু ও নুসরাত তাবাসসুম। কাউন্সিলে সংসদ সদস্যদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতিও আলোচনায় এসেছে।

প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, এনসিপির খসড়া গঠনতন্ত্রে রাজনৈতিক কাউন্সিলে অন্তত তিনজন নারী রাখার বিধান রয়েছে। এ তথ্য অনুযায়ী, নতুন কাউন্সিলে নারী প্রতিনিধিত্বের সংখ্যা ওই মানদণ্ডের চেয়ে কম। তবে খসড়া গঠনতন্ত্রের বিধানটি চূড়ান্ত ও কার্যকর গঠনতন্ত্রে একইভাবে বহাল আছে কি না, তা আনুষ্ঠানিক নথি দিয়ে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, শুধু নারী হওয়ার কারণে কাউকে কাউন্সিলে নেওয়া হলে দলকে দুর্বল হিসেবে দেখা হতে পারে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক পরিপক্বতা, সক্ষমতা ও নীতিনির্ধারণে কার্যকর ভূমিকা রাখার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যোগ্য নারী নেতৃত্ব তৈরি হলে কাউন্সিলে তাঁদের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এই বক্তব্য বিতর্কের আরেকটি দিক সামনে এনেছে। যোগ্যতা ও কার্যকর অংশগ্রহণের গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও, যোগ্য নারী নেতৃত্বের বিকাশ ও নীতিনির্ধারণে তাঁদের সুযোগ তৈরি করার দায়িত্বও রাজনৈতিক দলের। নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়টিকে কেবল পদ পূরণের প্রশ্ন হিসেবে দেখলে চলবে না; একই সঙ্গে তাঁদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাও বিবেচনায় নিতে হবে।

সামান্তা শারমিনের পদমর্যাদা কমে যাওয়া এবং নাহিদা সারওয়ার নিভার দায়িত্ব পরিবর্তন এই আলোচনাকে আরও তীব্র করেছে। তাঁরা দুজনই আগে দলের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্বে ছিলেন। তাঁদের নতুন পদে রাখা হলেও রাজনৈতিক কাউন্সিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ সামান্তা শারমিনের বিষয়ে বলেছেন, অসুস্থ স্বামীকে সময় দিতে গিয়ে তিনি দীর্ঘদিন কিছুটা নিষ্ক্রিয় ছিলেন। তাঁর দায়িত্ব পরিবর্তনে ব্যক্তিগত পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে আতিকের ব্যাখ্যা। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, সামান্তা ভবিষ্যতে আবার সক্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ফিরবেন।

তবে এই ব্যাখ্যা থেকে স্বাভাবিকভাবেই আরও কিছু প্রশ্ন আসে। দায়িত্ব পালনের মূল্যায়নে কী ধরনের মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে? একই মানদণ্ড কি সব নেতার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়েছে? সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল কি না? এসব প্রশ্নের উত্তর না মিললে ব্যক্তিগত নিষ্ক্রিয়তার ব্যাখ্যা দিয়ে সামগ্রিক বিতর্কের অবসান ঘটানো কঠিন।

জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা কি রাজনৈতিক পরিচয়ের সংকট

এনসিপির অভ্যন্তরীণ বিতর্কের আরেকটি বড় উৎস বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতা। দলটির সমালোচকদের একাংশের অভিযোগ, নির্বাচনি হিসাব মেলাতে গিয়ে এনসিপি নিজের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল করার ঝুঁকিতে পড়েছে। তাঁদের মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তার সঙ্গে পরবর্তী রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সামঞ্জস্য নিয়ে ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খাঁন নতুন কমিটি নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, জামায়াতের পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে এনসিপির গুরুত্বপূর্ণ পদ বণ্টন করা হয়েছে এবং জামায়াতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার বিরোধী বা স্বতন্ত্র রাজনীতির পক্ষে থাকা কয়েকজন নেতাকে তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে।

নতুন কমিটির বিন্যাস দেখে এনসিপি জামায়াতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাশেদ। তিনি দলটিকে ‘প্রক্সি জামায়াত’ বলেও সমালোচনা করেন। তবে এগুলো তাঁর রাজনৈতিক মূল্যায়ন ও অভিযোগ; জামায়াতের অনুমোদনে কমিটি গঠিত হয়েছে কিংবা পদবিন্যাসে দলটির সরাসরি প্রভাব ছিল—এমন দাবি প্রমাণ করতে সংশ্লিষ্ট নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য প্রয়োজন।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা নির্বাচনি উদ্দেশ্যে করা হয়েছে; এতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বা সংস্কারের কর্মসূচি থেকে দল সরে আসেনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের বড় অংশ সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত। যারা বিরোধিতা করছেন বা পদত্যাগ করেছেন, তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ তৈরির কথাও তিনি বলেছেন। নাহিদের বক্তব্য দলটির অবস্থান ব্যাখ্যা করে। কিন্তু নির্বাচনি সমঝোতা ও রাজনৈতিক নির্ভরশীলতার পার্থক্য শুধু বক্তব্যে নয়, বাস্তব সিদ্ধান্তেও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। সংসদে ভোট, নীতিগত অবস্থান, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রশ্নে দলীয় কর্মসূচি কিংবা ভবিষ্যৎ জোটের সিদ্ধান্তে এনসিপি কতটা স্বাধীনভাবে অবস্থান নেয়—সেসবই শেষ পর্যন্ত দলটির স্বাতন্ত্র্যের পরীক্ষা হবে।

অন্যদিকে, নির্বাচনি সমঝোতা মানেই আদর্শ বিসর্জন—এমন সিদ্ধান্তও স্বয়ংক্রিয়ভাবে টানা যায় না। রাজনৈতিক দলগুলো আসন, কর্মসূচি ও নির্বাচনি কৌশল নিয়ে সমঝোতা করতে পারে। কিন্তু সেই সমঝোতার শর্ত, সীমা ও নীতিগত আপসের জায়গাগুলো স্পষ্ট না থাকলে সমর্থকদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।

জুলাইয়ের সহযোদ্ধাদের সঙ্গে দূরত্ব

এনসিপির পরিচয়ের সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্পর্ক সরাসরি। আন্দোলনের সময় একসঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক মতভেদ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু মতভেদ কীভাবে সামলানো হচ্ছে, সেটিই নতুন দলের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরীক্ষা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থান, জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক এবং নারী অধিকার প্রশ্নে সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্যের সারকথা, শুধু জোটের প্রশ্ন নয়; জুলাই আন্দোলনে ঘোষিত মূল্যবোধের সঙ্গে দলের বর্তমান আচরণের সামঞ্জস্যও স্পষ্ট করা দরকার।

এনসিপি থেকে পদত্যাগকারী ও ভিন্নমতাবলম্বী হিসেবে আলোচনায় আসা মীর আরশাদুল হক, তাজনুভা জাবিন, খালেদ সাইফুল্লাহ ও তাসনিম জারাসহ কয়েকজনের অভিযোগ, জামায়াতের সঙ্গে জোটের সিদ্ধান্ত দলের মূল রাজনৈতিক সংস্কার ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে অবজ্ঞা করেছে। তাঁদের আরও অভিযোগ, নীতিনির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় যথেষ্ট স্বচ্ছতা ছিল না।

এই অভিযোগগুলোর প্রতিটির পেছনে কী নির্দিষ্ট ঘটনা বা সিদ্ধান্ত রয়েছে, তা আলাদা করে যাচাই করা জরুরি। একইভাবে পদত্যাগী নেতাদের বক্তব্যের জবাবে দলের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের নথিও গুরুত্বপূর্ণ। তবে একাধিক নেতার অসন্তোষ সামনে এলে তা শুধু ব্যক্তিগত বিরোধ হিসেবে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ থাকে না; দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো নিয়ে বৃহত্তর আলোচনার প্রয়োজন তৈরি হয়। আতিক মুজাহিদ বলেছেন, ব্যক্তিগত সমস্যা ও বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে কয়েকজন সহযোদ্ধা দল থেকে দূরে সরে গেছেন। তাঁদের প্রতি দলের ভালোবাসা আগের মতোই রয়েছে এবং দলত্যাগ বা নিষ্ক্রিয়তা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তাঁর ব্যাখ্যা ব্যক্তিগত কারণের গুরুত্ব তুলে ধরে। কিন্তু সব পদত্যাগের পেছনে একই ধরনের কারণ রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।

আস্থার সংকট কাটানোর পরীক্ষা

এনসিপির সামনে এখন সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ আস্থা পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বড় কমিটি গঠন, পদ পুনর্বণ্টন কিংবা নির্বাচনি সমঝোতা—কোনোটিই নিজে থেকে কোনো দলের গণতান্ত্রিক চরিত্র প্রমাণ বা অপ্রমাণ করে না। গুরুত্বপূর্ণ হলো, সিদ্ধান্তগুলো কীভাবে নেওয়া হয়েছে এবং ভিন্নমতের প্রতি নেতৃত্বের আচরণ কেমন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আলোচনায় যে বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে কমিটি গঠনের মানদণ্ড প্রকাশ, পদ পরিবর্তনের যুক্তি ব্যাখ্যা, গঠনতন্ত্রের বিধান মেনে রাজনৈতিক কাউন্সিল গঠন এবং নারী নেতাদের নীতিনির্ধারণে কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতার শর্ত ও সীমা স্পষ্ট করা এবং পদত্যাগী নেতাদের অভিযোগের জবাব দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

দলের নেতৃত্ব চাইলে অভ্যন্তরীণ সংলাপের মাধ্যমে মতভেদ কমানোর উদ্যোগ নিতে পারে। তবে সংলাপের উদ্দেশ্য শুধু বিরোধীদের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে রাজি করানো হলে তা আস্থার সংকট কাটাতে যথেষ্ট হবে না। সমালোচনা শোনার, সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার এবং প্রয়োজনে ভুল স্বীকার করার সুযোগও থাকতে হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে এনসিপির কাছে প্রত্যাশা ছিল, দলটি নেতৃত্ব নির্বাচন ও নীতিনির্ধারণে এমন সংস্কৃতি গড়ে তুলবে, যা প্রচলিত দলগুলোর চর্চা থেকে আলাদা। এখন সেই প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তবতার ব্যবধান কতটা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এনসিপি শেষ পর্যন্ত স্বতন্ত্র রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দাঁড়াতে পারবে কি না, তা শুধু নতুন কমিটির পদবিন্যাস দিয়ে নির্ধারিত হবে না। বরং দলটি কীভাবে অভ্যন্তরীণ ভিন্নমত সামলায়, নারী নেতৃত্বকে কতটা ক্ষমতা দেয়, নির্বাচনি সমঝোতার মধ্যেও নিজস্ব নীতিগত অবস্থান ধরে রাখে এবং জুলাই আন্দোলনের বৃহত্তর অংশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখে—এসবের ওপরই নির্ভর করবে তার রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা।

১

বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনা কতটা, সামনে যেসব শর্ত

২

তারেক-তাকাইচি শীর্ষ বৈঠকে গুরুত্ব পাবে যেসব বিষয়

৩

এনসিপির নতুন কমিটিতে ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস, প্রশ্নে স্বতন্ত্র রাজনীতি ও নারী নেতৃত্ব

৪

ব্যালন ডি’অরে কে কোন পুরস্কার জিতলেন

৫

এনসিপির নতুন উইং ‘জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক শক্তি’, নেতৃত্বে আলোচনায় যারা

৬

বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর কবর খোঁড়ার ভাইরাল ছবি: যা জানা গেল

৭

‘আওয়ামী লীগ’ আখ্যা দিয়ে সিপিবি কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ

৮

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান ইরানের

৯

চীনের এআই ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে ধস, উধাও ৪৮ হাজার কোটি ডলার

১০

কক্সবাজারে মেরিন ড্রাইভে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু, গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ৬ কোটি টাকার রিসোর্ট

১১

সরকার অনুমতি দিলেই কি ‘ক্রসফায়ার’ বৈধ, সংবিধান ও আইনে কী আছে

১২

ব্যালন ডি’অর জিতলেন হ্যারি কেইন, ২৫ বছর পর ইংল্যান্ডের সাফল্য

১৩

প্রথম বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে রূপপুর

১৪

পুলিশের কাজ অপরাধী শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা, বিচার করা নয়: সাদিক কায়েম

১৫

তেলবাজদের নিয়ে বিদেশ সফর, জানেও না কেন যাচ্ছে; আবার বলছে প্রথমবার বাইরে: জামায়াত এমপি মাসুদ

১

ট্রেনের ১৭ হাজার টিকিটের জন্য ২ কোটি ৭৬ লাখ বার চেষ্টা

২

দিল্লিতে ভারী বৃষ্টিতে বিমান চলাচল বিঘ্ন, ব্যাপক দুর্ভোগ

৩

মিরাজ-সৌম্যকে দলে টানতে চায় রংপুর

৪

আওয়ামী লীগ নেত্রী গ্রেফতার

৫

গাজায় একদিনে নিহত আরও ৭৯ ফিলিস্তিনি

৬

বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ

৭

মাদককারবারিদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ওসির

৮

২ বহিরাগতের নিয়ন্ত্রণে সরকারি অফিস!

৯

নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ ব্যতীত সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতির সুযোগ নেই: আলী রীয়াজ

১০

বনানীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২

১১

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে স্থগিত যেসব চাকরির পরীক্ষা

১২

নন-ক্যাডারে ৪১৩৬ জনকে নিয়োগের সুপারিশ

১৩

৬৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ’র গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

১৪

নারায়ণগঞ্জের আলোর বাতিঘর ‘সুধীজন পাঠাগার’

১৫

মাদ্রাসায় গ্রামীণ ফোন করপোরেট নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক

সম্পর্কিত