- আলমডাঙ্গায় কলেজ এলাকায় হামলার অভিযোগে ৩ জনের নাম উল্লেখ করে এজাহার; তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা পুলিশের
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব মো. আরাফাত রহমানকে (২১) মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় এজাহার দিয়েছেন তিনি।
গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন আরাফাত। তিনি আলমডাঙ্গা উপজেলার কুমারী ইউনিয়নের হাড়গাড়ী গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে।
এজাহারে নাম উল্লেখ করা ব্যক্তিরা হলেন আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার গোবিন্দপুরের আনারুল ইসলামের ছেলে কাজল আলী (২১), স্টেশনপাড়ার মৃত সাইফুল ইসলাম কনকের ছেলে সাইফ আলী (২০) এবং এক্সচেঞ্জপাড়ার সাংবাদিক বশিরুল ইসলামের ছেলে স্বপ্নীল (২০)। তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরাফাত রহমানের অভিযোগ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার পর থেকে পূর্ববিরোধের জেরে তাঁকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। বুধবার দুপুরে আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজে বিএনসিসি সদস্যদের নিয়ে কাজ করার সময় কাজল আলীসহ অন্যরা তাঁর ওপর হামলা করেন। এ সময় ফেসবুকে সরকারের সমালোচনা করে কেন পোস্ট দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাঁকে ঘিরে ধরে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ তাঁর।
এজাহারে বলা হয়েছে, কাজল আলী বিএনসিসি ক্যাডেটদের প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত ডেমো রাইফেল দিয়ে আরাফাতের মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করেন। এতে তাঁর বাম কাঁধের ওপর আঘাত লাগে। পরে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে সাইফ আলী জিআই পাইপ দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। স্বপ্নীল কাঠের বাটাম দিয়ে তাঁর ডান হাত ও ডান পায়ে আঘাত করেন বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। আঘাত ঠেকাতে গিয়ে ডান হাতেও জখম হয়েছে বলে দাবি করেছেন আরাফাত।
এজাহার অনুযায়ী, আরাফাতের চিৎকার শুনে বিএনসিসির সহকর্মী ও স্থানীয় শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যান। পরে তাঁকে উদ্ধার করে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আরাফাত রহমান বলেন, তাঁকে মারধরের পর বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে তিনি শঙ্কিত।
অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে সব তথ্য যাচাই করা যায়নি।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মত প্রকাশের পর হামলার অভিযোগটি সামনে আসায় ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে হামলার প্রকৃত কারণ, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।