- শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও তদন্ত কমিটির সুপারিশ; পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে ট্রাইব্যুনাল গঠন
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ এবং শিক্ষার্থীদের করা অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিনাত হুদাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নির্ধারণে একটি ট্রাইব্যুনালও গঠন করা হয়েছে।
বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পর জিনাত হুদার বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই তাঁকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উপ-উপাচার্য জানান, অভিযোগগুলো নিয়ে পরবর্তী তদন্তের জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্তটি অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত শাস্তির সিদ্ধান্ত নয়; পরবর্তী প্রক্রিয়া ট্রাইব্যুনালের প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করবে।
অধ্যাপক জিনাত হুদা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটের নির্বাচিত সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি আওয়ামী লীগপন্থী নীল দলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর আগে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাদেকা হালিম, নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম ও অধ্যাপক আফরোজা শেলীসহ কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্ত বা একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নেয় সিন্ডিকেট।
এ ছাড়া জুলাই আন্দোলনের সময়কার ঘটনাকে কেন্দ্র করে লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন এবং ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের বিরুদ্ধেও সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমল হোসেন ভূঁইয়াকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে বিরত রাখা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভিযোগের তদন্ত, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এবং ট্রাইব্যুনালের প্রতিবেদনের পর জিনাত হুদার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।