- মতপ্রকাশের অধিকারের প্রতি সম্মান জানাতে তারেক রহমানের নির্দেশ; নিরাপত্তার জন্য থানায় নেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশের দাবি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাংলা উচ্চারণ নিয়ে শ্রেণিকক্ষে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে থানায় নেওয়া স্কুলশিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালনকে প্রায় ১২ ঘণ্টা পর পরিবারের কাছে পৌঁছে দিয়েছে পুলিশ। বুধবার রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে তাঁকে বাসায় দিয়ে আসা হয় বলে জানিয়েছে দৌলতপুর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় শিক্ষককে আটক করা হয়নি দাবি করে পুলিশ বলেছে, স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে নিরাপত্তার জন্য তাঁকে থানায় নেওয়া হয়েছিল।
গোলাম কিবরিয়া লালন দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাংলা বিষয়ের শিক্ষক। মঙ্গলবার দশম শ্রেণির বাংলা ক্লাসে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ভাষণের উচ্চারণ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফুজ্জামান মুকুলের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে শিক্ষক লালন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। <Cite refs={["turn917277news0","turn917277search11"]} />
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, বুধবার রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে শিক্ষককে বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সকালে কিছু অভিভাবক মব সৃষ্টির চেষ্টা করলে নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁকে থানায় নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে দশম শ্রেণির বাংলা ক্লাস চলাকালে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বাংলা ভাষণের প্রসঙ্গ ওঠে। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বাংলা উচ্চারণ নিয়ে শিক্ষক আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে। পরে তাঁরা বিষয়টি অভিভাবকদের জানালে এলাকায় অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
বুধবার সকালে কয়েকজন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষক লালনকে থানায় নিয়ে যায়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও প্রাগপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুল জানান, বুধবার সকালে বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে শিক্ষক লালনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রধান শিক্ষকের ভাষ্য অনুযায়ী, লালন প্রধানমন্ত্রীর বাংলা উচ্চারণ নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি ব্যাখ্যা দেন, দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকার কারণে প্রধানমন্ত্রীর বাংলা উচ্চারণে কিছুটা অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে—এমন কথাই তিনি বলেছিলেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ বিষয়ে একটি পোস্ট দেন। সেখানে বলা হয়, বিষয়টি জানার পর প্রধানমন্ত্রী সংক্ষুব্ধ হন এবং সংশ্লিষ্ট থানাকে শিক্ষককে সসম্মানে ছেড়ে দিয়ে নিরাপদে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর পুলিশ তাঁকে বাসায় পৌঁছে দেয় বলেও পোস্টে উল্লেখ করা হয়।
মাহদী আমিনের পোস্টে আরও বলা হয়, মতের ভিন্নতা থাকতে পারে এবং প্রত্যেক মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামত নিজস্ব। কারও মতের সঙ্গে একমত না হলেও তাঁর মতপ্রকাশের অধিকারকে সম্মান করা উচিত বলে প্রধানমন্ত্রী মনে করেন।
ঘটনাটি ঘিরে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক কী মন্তব্য করেছিলেন, তা নিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিপরীতে শিক্ষক তা অস্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে কোনো তদন্তের চূড়ান্ত ফল বা আইনগত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর স্থানীয়দের বিক্ষোভ এবং নিরাপত্তার জন্য তাঁকে থানায় নেওয়ার ঘটনা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভিন্নমত নিয়ে আলোচনা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য বিবেচনা করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো প্রয়োজন।