আর্থিক শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতে সংঘটিত অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের তদন্ত চলছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
রোববার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ কথা বলেন।
গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিন প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের অনিয়ম ও ঋণ খেলাপি নিয়ে প্রশ্ন তুললে অর্থমন্ত্রী বলেন, শুধু একটি ব্যাংক নয়, বিভিন্ন ব্যাংকের অনিয়ম তদন্ত করা হচ্ছে। অনেকের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুরো আর্থিক খাতের সমস্যা রাতারাতি সমাধান সম্ভব না হলেও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলমান থাকবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ফারহানা কৃষিপণ্য সংরক্ষণাগার ও কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনে স্বল্প সুদের দীর্ঘমেয়াদি ঋণের বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প তহবিল ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। এ তহবিল থেকে উদ্যোক্তারা ৭ শতাংশ সুদে সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাচ্ছেন।
তিনি আরও জানান, কৃষি ও পল্লী খাতের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম গঠন করা হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি খাতে ৩৯ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া আমদানি বিকল্প ফসল উৎপাদনে ৪ শতাংশ রেয়াতি সুদে ঋণ দেওয়া হচ্ছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর বিপুল খেলাপি ঋণের বিষয়ে সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, যারা দেশের অর্থ লুটপাট করে বিদেশে পালিয়ে গেছে, তাদের বিষয়ে সরকার কোনো আপস করবে না। তাদের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্ত এবং সম্পত্তি ক্রোকের কার্যক্রম চলছে এবং এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মুজাহিদ রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়ে প্রশ্ন তুললে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে কোনো ব্যাংকে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ বা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ নেই। ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়া শেষে ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে।
এদিকে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো ও যুব কর্মসংস্থান বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ফরিদগঞ্জে ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি উপজেলা সেবা ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্পন্ন হয়েছে। সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।