আমিরাত লক্ষ্য করে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরান দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে অভিযোগ করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে ক্ষেপণাস্ত্র দুটি সাগরে গিয়ে পড়ায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে আবুধাবি।

মঙ্গলবার আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। গত ৪ মে ফুজাইরাহ বন্দরে ইরানের হামলার পর এবারই প্রথম এ ধরনের হামলার অভিযোগ করল সংযুক্ত আরব আমিরাত।

বিবৃতিতে বলা হয়, ইরান থেকে আমিরাতের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র দুটি সামুদ্রিক যান লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দুটিই সাগরে গিয়ে পড়ে।

তবে বুধবার সকালে আমিরাতের এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘাই। তিনি আমিরাতের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেন।

ক্ষপণাস্ত্র হামলার অভিযোগের পর সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য কার্যক্রম, বাণিজ্যিক বিনিময় ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত থাকবে।

দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তির লক্ষ্যে ঘোষিত ৬০ দিনের শান্তি আলোচনার সময়সীমা কোনো অগ্রগতি ছাড়াই সোমবার শেষ হওয়ার পর এ হামলার অভিযোগ সামনে এলো। এতে সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে গত ফেব্রুয়ারি থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।

আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবিলা এবং দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো প্রচেষ্টা দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাসিন্দাদের মোবাইলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সম্পর্কে সতর্কবার্তা পাঠায়। পরে পরিস্থিতি নিরাপদ রয়েছে জানিয়ে সাধারণ কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার কথা বলা হয়।

সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাত অভিযোগ করেছে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় ইরান তাদের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানি এডনকের একটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। তবে ওই হামলার দায় স্বীকার করেনি ইরান।

এর আগে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিল, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী কোনো জাহাজ তেহরানের বিরোধীদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হলে কিংবা ইরানের নির্দেশনা মেনে চলতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র: রয়টার্স

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত