ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্ব নিয়ে চলমান বিরোধে গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্বর্তী আদেশ দিয়েছেন আলিপুরের একটি দেওয়ানি আদালত। আদালত আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কো) বজায় রাখার নির্দেশ দিয়ে দলের প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আইনি জটিলতার সৃষ্টি করেছে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক বিষয়ে একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিধিনিষেধ থাকবে। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, আদালত তাদের ওয়ার্কিং কমিটিকেই আপাতত দলের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার বৈধ কর্তৃপক্ষ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় এখনো হয়নি।
মামলাটি করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক নেত্রী জুঁই বিশ্বাস। তার অভিযোগ, দলের অর্থ, নথিপত্র ও সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। আবেদনকারীর আশঙ্কা, চলমান বিরোধের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দলীয় নথি বা তহবিলের ক্ষতি হতে পারে।
আদালত বিষয়টির জরুরি গুরুত্ব বিবেচনায় অন্তর্বর্তী আদেশ জারি করলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য এখনো শোনা হয়নি। আগামী ৬ আগস্ট নির্ধারিত শুনানিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণের পর আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেবেন।
এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বের বৈধতা নিয়ে বিরোধের জেরে ভারতের নির্বাচন কমিশনও আনুষ্ঠানিক শুনানি শুরু করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিদ্বন্দ্বী শিবির—উভয় পক্ষের কাছেই কমিশন তাদের দাবি-সংক্রান্ত নথি ও ব্যাখ্যা চেয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের অন্তর্বর্তী নির্দেশ এবং নির্বাচন কমিশনের শুনানি—দুই প্রক্রিয়ার ফলাফলই পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অনিশ্চয়তা বহাল থাকবে।