অবৈধ মাদরাসা চিহ্নিত করতে পশ্চিমবঙ্গে ১৮ সদস্যের কমিটি

আজাদ ডেস্ক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ ও সরকারি স্বীকৃতিবিহীন (খারিজি) মাদরাসা চিহ্নিত করতে রাজ্য সরকার ১৮ সদস্যের একটি বিশেষ পর্যালোচনা কমিটি গঠন করেছে। সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদরাসা শিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে গঠিত এই কমিটি আগামী ১৫ জুলাই থেকে রাজ্যের ১২টি জেলায় সরেজমিনে তদন্ত শুরু করবে। তদন্ত প্রতিবেদন ২১ জুলাইয়ের মধ্যে সরকারের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর দিনাজপুর, কোচবিহার, মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, বীরভূম, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুর—এই ১২টি জেলায় সরকারি স্বীকৃতিবিহীন মাদরাসাগুলোর কার্যক্রম খতিয়ে দেখা হবে। কমিটি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের সহায়তায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, প্রতিষ্ঠাকাল, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা, আবাসিক ব্যবস্থা এবং পাঠ্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ করবে।

রাজ্য সরকারের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এটি চলমান প্রশাসনিক পর্যালোচনার অংশ। জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে প্রাথমিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর যেসব এলাকায় স্বীকৃতিহীন মাদরাসার সংখ্যা বেশি বলে উঠে এসেছে, সেসব জেলায় দ্বিতীয় ধাপের সরেজমিন তদন্ত চালানো হবে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধভাবে পরিচালিত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে যদি দেশবিরোধী বা বেআইনি কার্যকলাপের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতে বামফ্রন্ট সরকারের সময়ও স্বীকৃতিহীন মাদরাসাগুলোর ওপর নজরদারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তবে তা বাস্তবায়িত হয়নি।

অন্যদিকে রাজ্যের নগর উন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রম ও পরিচালনা সম্পর্কে সরকারের স্বচ্ছ ধারণা থাকা প্রয়োজন। তার মতে, স্বীকৃতিহীন প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম আইন ও শিক্ষানীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই করতেই এই পর্যালোচনা পরিচালিত হচ্ছে।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে যেসব প্রতিষ্ঠান আইনগত শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হবে বা অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বৈধভাবে পরিচালিত ও সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মাদরাসাগুলোর ক্ষেত্রে এই অভিযানের কোনো প্রভাব পড়বে না বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানিয়েছে।
 

এলাকার খবর

সম্পর্কিত