বাংলাদেশিকে বিএসএফ তুলে নেওয়ার পর ২ ভারতীয়কে ধরে আনল স্থানীয়রা, পতাকা বৈঠকে হস্তান্তর

মেহেরপুর প্রতিনিধি
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

মেহেরপুর সীমান্তে কয়েক ঘণ্টার উত্তেজনা; বৈঠকের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশি কৃষককে ফেরত দিল বিএসএফ, দুই ভারতীয়কে ফেরত পাঠাল বিজিবি

মেহেরপুর সদর উপজেলার সীমান্তে এক বাংলাদেশি কৃষককে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ধরে নিয়ে যাওয়ার পর উত্তেজনা তৈরি হয়। এর জেরে সীমান্তসংলগ্ন গ্রামের লোকজন ভারতের দুই নাগরিককে ধরে এনে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মঙ্গলবার দুপুরে ইছাখালী সীমান্তের শূন্যরেখায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিকেল ৩টার দিকে বিএসএফের হাতে আটক সত্তরোর্ধ্ব বাংলাদেশি কৃষক আব্দুল মান্নানকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। একই সময়ে বিজিবির হেফাজতে থাকা দুই ভারতীয় নাগরিককেও নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

ফিরে যাওয়া দুই ভারতীয় হলেন নদীয়া জেলার তেহট্টা থানার লালবাজার গ্রামের মৃত মনমোহন দাসের ছেলে শচীন দাস (৬৫) এবং একই এলাকার কুঞ্জ বিশ্বাসের ছেলে নরতন বিশ্বাস (৩৫)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে বাড়ির পাশের মরিচখেতে কীটনাশক দিতে গিয়েছিলেন আব্দুল মান্নান। এ সময় সীমান্তের ১২৪/৪-এস পিলার এলাকার কাছ থেকে বিএসএফ সদস্যরা তাকে ধরে নিয়ে যান বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

বিষয়টি জানাজানি হলে সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা সীমান্তের ১২৩/৩-এস পিলার এলাকা থেকে ভারতের লালবাজার গ্রামের দুই নাগরিককে ধরে নিয়ে আসেন। পরে তাদের ইছাখালী বিজিবি ক্যাম্পে হস্তান্তর করা হয়।

এতে পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে। একদিকে বিএসএফের হাতে বাংলাদেশি কৃষক, অন্যদিকে বিজিবির হেফাজতে দুই ভারতীয় নাগরিক—দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ঘটনার পর ইছাখালী সীমান্তের শূন্যরেখায় বিজিবি ও বিএসএফের প্রতিনিধিরা পতাকা বৈঠকে বসেন। বৈঠকে ভারতের পক্ষে নবচন্দ্রপুর বিএসএফ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার রাজিব কুমার এবং বাংলাদেশের পক্ষে ইছাখালী বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার নায়েক সুবেদার আবু হানিফ প্রতিনিধিত্ব করেন। বৈঠকে আটকদের নিজ নিজ দেশে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। বিকেল ৩টার দিকে বিএসএফ বাংলাদেশি কৃষক আব্দুল মান্নানকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। একইভাবে বিজিবি শচীন দাস ও নরতন বিশ্বাসকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে।

বিজিবি-৬ চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হয়েছে। তিনি বলেন, “দুই বাহিনী সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আটকদের হস্তান্তর করেছে। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।”

আব্দুল মান্নান ফিরে আসার পর স্বস্তি ফিরেছে তার পরিবারে। তার নাতি ইব্রাহিম বলেন, সকালে বাড়ির পাশের মরিচখেতে কীটনাশক দিতে যাওয়ার পর তার দাদাকে বিএসএফ ধরে নিয়ে যায়। দাদাকে ফিরে পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

সীমান্তে স্থানীয় বাসিন্দাদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে।
 

এলাকার খবর

সম্পর্কিত