যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে রাশিয়া ইরানকে সহায়তার তথ্য এলেও ট্রাম্প কেন পাত্তা দিচ্ছেন না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর সময় মধ্যপ্রাচ্যে তেহরানের সমর্থিত প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন ও সক্ষমতা দুর্বল করাকে অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তবে রাশিয়া ইরানকে মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধে সহায়তা করছে কি না—এ বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট কমিটির এক শুনানিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, রাশিয়া ও চীন বিভিন্ন উপায়ে ইরানকে এমন সহায়তা দিচ্ছে, যার ফলে দেশটি তার সামরিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পারছে।

তবে দুই দিন পর রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের উপস্থিতিতে এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, তাঁর বিশ্বাস রাশিয়া ও চীন সরাসরি ইরান যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে না। তিনি দাবি করেন, দুই দেশের নেতারা তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন যে তারা ইরানের কাছে অস্ত্র বিক্রি করছেন না।

ট্রাম্প লেখেন, “তারা হয়তো কিছু কাজ করতে পারে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এটি বড় কিছু নয়। আমার মনে হয় না তারা আমাকে হতাশ করতে চাইবে।”

এদিকে মার্কিন ও ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের ধারণা, রাশিয়া ইরানকে ড্রোন ও ড্রোনের যন্ত্রাংশ সরবরাহ করছে। যদিও ক্রেমলিন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও দাবি করেছেন, রাশিয়া ইরানকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহ করেছে, যা ব্যবহার করে ইরান হামলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, বিষয়টি সত্য হলেও এর বিশেষ প্রভাব পড়ত না। তবে তিনি জানান, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জানতে চাইবেন।

এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে প্রতিবেদন প্রকাশ করে জানিয়েছিল, রাশিয়া ইরানকে মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কিত গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে। পরবর্তীতে নিউইয়র্ক টাইমসও একই ধরনের তথ্য প্রকাশ করে।

অন্যদিকে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের নিযুক্ত বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানান, তিনি রাশিয়াকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেছেন যাতে তারা ইরানকে লক্ষ্য নির্ধারণসংক্রান্ত তথ্য বা অন্য কোনো সামরিক সহায়তা না দেয়। তবে ট্রাম্প নিজে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে তেমন কঠোর অবস্থান নেননি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের একটি বিতর্কের কথা মনে করিয়ে দেয়। সে সময় অভিযোগ উঠেছিল, আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার জন্য রাশিয়া তালেবান-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোকে অর্থ পুরস্কার দিচ্ছিল। যদিও ট্রাম্প তখন সেই অভিযোগকে ‘ভুয়া খবর’ ও ‘প্রতারণা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।

 

 

শু/আজা

এলাকার খবর

সম্পর্কিত